সোনাইমুড়ীর জোড়পোলে অস্থায়ী অনুমতিতে পাকা ব্রিজ, মহাসড়কের গাইড পোস্ট ভাঙার অভিযোগ


নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী চৌরাস্তার ‘জোড়পোল’ এলাকায় চার খালের মুখে বাঁধ দিয়ে চলছে ব্যক্তি মালিকানাধীন পাকা ব্রিজ নির্মাণ। অস্থায়ী চলাচলের অনুমতি নিয়ে স্থায়ীভাবে পাকা ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি নোয়াখালী-কুমিল্লা মহাসড়কের গাইড পোস্ট ভেঙে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে।

এটি একদিকে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে মাটি ধসে মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

এর আগে গত ডিসেম্বরে তৎকালীন এসিল্যান্ড দ্বীন আল জান্নাত অভিযান চালিয়ে ব্রিজের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগ নির্মাণসামগ্রী জব্দ করেছিল। কিন্তু গত ২৮ এপ্রিল তিনি বদলি হওয়ার পরদিন থেকেই আবার শুরু হয় নির্মাণকাজ।

অস্থায়ী অনুমতিতে পাকা স্থাপনা

নোয়াখালী জেলা পরিষদের গোপনীয় সহকারী মো. নুর উদ্দিন জানান, ব্রিজ নির্মাণের আবেদনের সঙ্গে কোনো নকশা জমা দেওয়া হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সিসি ঢালাই বা পাকা স্থাপনা নয়, বাঁশ-কাঠ বা গ্রাম্য সাঁকোর মতো অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্রিজ নির্মাণের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”

জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এর ৪৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অস্থায়ী স্থাপনা বলতে বাঁশ, কাঠ, টিন বা লোহার অস্থায়ী ফ্রেম দিয়ে তৈরি সহজে অপসারণযোগ্য স্থাপনাকে বোঝায়। কিন্তু বাস্তবে নির্মাণ হচ্ছে পাকা ঢালাইয়ের ব্রিজ।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার তদবিরে জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ ব্রিজ নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন। জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার ইমরান হোসেন এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কথোপকথনে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী বলেন, “পানি চলাচলে বাধা হবে এমন কিছু অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ নেই।”

সওজের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ

নোয়াখালী সড়ক ও জনপদ বিভাগের সার্ভেয়ার জাহিদ হোসেন জানান, ১৯৯২ সালে জোড়পোলের মহাসড়ক সংলগ্ন জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে নামজারি না হওয়ায় অংশটি এখনো জেলা পরিষদের নামে রয়েছে।

সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “ব্রিজ নির্মাণকারীরা কোনো অনুমতি নেয়নি। জোড়পোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ চার রাস্তার মোড়ে গাইড পোস্ট ভেঙে ব্রিজ নির্মাণ অবৈধ। সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সওজের অধিগ্রহণ করা জমিতে লিখিত অনুমতি ছাড়া যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ অবৈধ দখল ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য।

পরিবেশ ও আইনগত উদ্বেগ

বাংলাদেশ পানি আইন-২০১৩ এবং জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ অনুযায়ী, প্রাকৃতিক জলাশয়ের স্বাভাবিক গতিপথ সংকুচিত করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চার খালের সংযোগস্থলে পানির চাপ ও প্রবাহ নির্ণয়ের এখতিয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের। পাউবোর ‘হাইড্রোলজিক্যাল ক্লিয়ারেন্স’ ছাড়া এ নির্মাণ দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ১ মে এই ব্রিজ নির্মাণ নিয়ে একুশে পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে জলাবদ্ধতার শঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছিল।

জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশিদ আজাদ বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বিদেশে রয়েছেন। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ন রশিদ বলেন, এ ব্রিজের অনুমোদনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। প্রশাসক দেশে ফিরলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।