
সরকারি টাকা ছাড়ার আগে ও পরে দুটি স্তরে যাচাই হয়। দুটিরই সীমা এই অনুসন্ধানে স্পষ্ট হয়েছে।
স্তর এক: প্রি-অডিট। ৯ আগস্ট সকালে চট্টগ্রামে বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে যাওয়া হয়। বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক এস এম মনজুর আহমেদ ব্যস্ততার কারণে দেখা করতে পারেননি; তিনি পাঠিয়ে দেন উপ-বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক জয়শ্রী মজুমদার রশ্মির কক্ষে।
কাজের পরিধি: “আমাদের কাজ হচ্ছে প্রি-অডিট করা। প্রি-অডিটের কাজ কী? ডকুমেন্টেশন ঠিক আছে কিনা।” কার্যাদেশ, চুক্তি, স্ট্যাম্প, ডিডিওর সই- “এগুলো দেখার পরে আমরা জাস্ট বিলটা পাশ করছি।”
মাঠ যাচাই: “সাইট ভিজিট করে… তারা কাজ কতটুকু করেছে- সেগুলো তো আমাদের দেখার বিষয় না।”
ই-জিপি মেলানো: “না, আমাদের ওটা দেখার কোনো সুযোগ নাই।”
কেন নেই: বিল আসে ক্রয়কারী দপ্তরের আয়ন ও ব্যয়ন কর্মকর্তার সই নিয়ে। “তিনি একজন গেজেটেড অফিসার, ফার্স্ট ক্লাস কর্মচারী। তিনি যখন একজন মেজারমেন্ট কর্মকর্তা লিখে দেন কাজ হয়েছে, আমাদের এর চাইতে বেশি ভেরিফাই করার আর সুযোগ নাই।”
স্তর দুই: নিরীক্ষা। একই দিনে দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান নিরীক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ্ জাহানকে জিজ্ঞেস করা হয়, নিরীক্ষায় ই-জিপির চুক্তি-পাতা প্রামাণ্য ধরা হয় কি না।
“আমরা তো সাধারণত অফলাইনে যেগুলো থাকে এগুলোই নিই। আর অনলাইনে যেটা থাকে সেটা তো প্রিন্ট করে পরে অফলাইনে ফাইলে রাখে। আমরা ফাইল থেকেই অডিট করি।”
অর্থাৎ ই-জিপির তথ্য নিরীক্ষায় ওঠে, তবে পোর্টাল থেকে নয়- ফাইলে রাখা প্রিন্ট থেকে। আর ফাইলে কোন পাতাগুলো যাবে, তা বেছে দেয় নিরীক্ষিত দপ্তরই।
ফল। চট্টগ্রামের তিন মাসে চুক্তির আগেই কাজ “শেষ” দেখানো ১৪৪টি চুক্তির ৫৮টি চট্টগ্রাম বন্দরের। বন্দরের নিজস্ব নিরীক্ষা বিভাগ আছে, প্রতি বছর নিরীক্ষা হয়। বন্দরের ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. জসিম উদ্দিনের ভাষ্য, ই-জিপির তথ্যও দেখা হয়- “ইজিপিও আমরা এখানে সব ডাউনলোড করে ফেলি, ফাইলের মধ্যে রেখে দিই।”
তবু ৫৮টি উল্টো তারিখের একটিও কোনো নিরীক্ষায় ধরা পড়েনি। কেন- সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো নেই।
মূল প্রতিবেদন: সরকারি কেনাকাটা: তারিখ যা খুশি লেখা যায়, কেউ আটকায় না
