
সংস্কারের প্রস্তাবগুলো বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া নয়- প্রতিটির সমর্থন এসেছে ব্যবস্থাটি যাঁরা প্রতিদিন চালান, তাঁদের কাছ থেকেই।
প্রস্তাব ১: তথ্য ঢোকার মুখে যুক্তি-বাধা।
কারিগরিভাবে সম্ভব, এবং প্রমাণ ব্যবস্থাটির ভেতরেই। জামানতের ক্ষেত্রে ই-জিপি নিরঙ্কুশ- বন্দরের ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. জসিম উদ্দিন: “ব্যাংক থেকে যদি পিজি না দেয় তাহলে এটা কন্টাক্ট লোড করতে পারবে না। ওই ট্যাবটা আসবে না।” ডি-নথিতেও- “এটা আমাদের ব্যাকডেটে করার কোনো সুযোগ নাই।”
মাঠপর্যায় থেকেও প্রস্তাবটি এসেছে। বিআইটিআইডি হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইফতেখার আহম্মদ: “ওখানে যদি ডেট ভ্যালিডেশনের একটা সিস্টেম রাখে যে একদিনে এই কাজগুলো সম্ভবও না, এগুলো নিবও না… ইজিপি সিস্টেমগুলোতে এগুলো নাই।”
আর ঠিকাদারের নামের ঘরে সংখ্যা বসানোর কথা শুনে জাতীয় ক্রয়-প্রশিক্ষক শাহানা ফেরদৌসের প্রতিক্রিয়া: “এত বছর পরেও যদি এরকম প্র্যাকটিস হয়, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।” আর “অন্য কেউ তথ্য তুলে দিয়েছে”- এই ব্যাখ্যাটিকে তিনি ছাড় হিসেবে মানতে রাজি নন: “অন্য কেউ করে দিছে- এটা কোনো এক্সকিউজ হতে পারে না।”
প্রস্তাব ২: স্বয়ংক্রিয় সতর্কতা।
বিপিপিএর সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. মোশাররফ হোসেনের জবাব ইতিবাচক: “রেড ফ্ল্যাগ দেওয়া যেতে পারে।”
কেন দরকার, তার সরলতম উত্তর এসেছে একজন প্রধান প্রকৌশলীর কাছ থেকেই। এক দিনে ১৫টি কাছাকাছি মূল্যের চুক্তি অনুমোদনের সময় সেগুলো বড় কাজের ছোট ভাগ কি না তা যাচাই হয় কি- এই প্রশ্নে পাউবোর প্রধান প্রকৌশলী খ. ম. জুলফিকার তারেক লেখেন: “My office just check the amount requested has within public procurement rule or not.”
মানুষ যেটি দেখে না, যন্ত্র সেটি প্রতি রাতে গুনে দিতে পারে।
আর জসিম উদ্দিন এক ধাপ এগিয়ে একটি নির্দিষ্ট ঘরের প্রস্তাব দিয়েছেন- প্রকাশিত পাতায় জামানত জমার ও ব্যাংক-অনুমোদনের তারিখ থাকলে “এই ঝামেলাটা হইতো না, প্রশ্নটা উঠতো না।” তবে বাধাটি তাঁর হাতে নেই: “ফরমেট তো আর চেঞ্জ করতে পারবে না।” অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি দপ্তরের নয়- নীতিনির্ধারকের।
প্রস্তাব ৩: উন্মুক্ত, বিশ্লেষণযোগ্য ডাটা।
বিপিপিএর “সিটিজেন পোর্টাল”-এ ওসিডিএস লিংকটি কাজ করে না; ২৩ জুলাই মোশাররফ হোসেন নিজের পর্দায় খুলে বলেন, “তাই তো, আমিও দেখছি কাজ করছে না।” (বিস্তারিত প্রথম পর্বে)
প্রস্তাব ৪: অপরিবর্তনীয় রেকর্ড।
ডা. ইফতেখার আহম্মদ: “আপনি এডিট করতে পারবেন, কিন্তু এডিট হিস্ট্রিটা থাকবে। কোন সময় কী করছে, কে এডিট করছে, কোন আইডি থেকে- ব্যাস, তাহলে তো আর কোনো সমস্যা নাই।”
শিক্ষা প্রকৌশলের জামাল উদ্দীন আহমেদের নিজের অভিজ্ঞতা থেকেও একই দাবি: “এডিট করার অপশনটা রাখা উচিত, সংশোধনের অপশনটা।”
প্রস্তাব ৫: আইটেম-ভিত্তিক দর প্রকাশ।
চমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. দেব প্রসাদ চক্রবর্তীর উদাহরণে: “উনি একটাতে দিল ৫০ পয়সা, আরেকটাতে দিল দেড় টাকা… উনার এস্টিমেট কিন্তু ১০ টাকাই রইলো।” সিস্টেম তখন তাঁকে “রেসপনসিভ” দেখায়, বিলও পরিশোধ হয়ে যায়; আপত্তি ওঠে অনেক পরে, নিরীক্ষার টেবিলে- আর তখন দায় বর্তায় কর্মকর্তার ঘাড়ে: “সরকারের আর্থিক অপচয়… উনার এবার পেনশন শেষ।”
আর যে সিদ্ধান্তটি শীর্ষ থেকে আসার কথা। ৩ আগস্ট বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান: “এইটাই যেন না বসানোর সুযোগ থাকে, সেটাই আমরা চেষ্টা করব- ডেফিনেটলি।” কারিগরিভাবে সম্ভব কি না- “এটা সম্ভব, এটা সম্ভব, এটা আমি বলছি।” সময়সীমা মেলেনি।
মূল প্রতিবেদন: সরকারি কেনাকাটা: তারিখ যা খুশি লেখা যায়, কেউ আটকায় না
