একুশে পত্রিকার ৫ সাংবাদিক পেলেন ‘ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড’


জনস্বার্থ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় একুশে পত্রিকা যে আপসহীন, ২০২৬ সালের প্রথম মাসেই তার জোরালো প্রমাণ মিলেছে। চট্টগ্রামের মাঠ প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান থেকে শুরু করে জাতীয় মেগা প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই একুশে পত্রিকার সাহসী সংবাদকর্মীরা রেখেছেন অভাবনীয় অবদান।

‘ইমপ্যাক্ট ট্র্যাকার রিপোর্ট’ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কেবল জানুয়ারি মাসেই অন্তত পাঁচটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ও সামাজিক পরিবর্তন এসেছে একুশে পত্রিকার সংবাদের হাত ধরে।

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে তোলপাড়: ‘ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ

জানুয়ারি মাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ইমপ্যাক্ট তৈরি করেছেন একুশে পত্রিকার মহেশখালী প্রতিনিধি ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের কঠোর নিরাপত্তার ভেতরে বারবার রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড ও নেপথ্যের ‘চোর সিন্ডিকেট’ নিয়ে তাঁর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশের মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির প্রধান নিজাম উদ্দিন আহমেদ স্বীকার করেছেন যে, একুশে পত্রিকার প্রতিবেদনে উঠে আসা গোপন তথ্যগুলো তাদের তদন্তের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হয়েছে।

জাতীয় এই মেগা প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুয়াদের এই কাজ তাঁকে জানুয়ারি মাসের ‘ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেতে সহযোগিতা করেছে।

শ্রমিকদের মুখে হাসি ফুটিয়ে ‘স্পেশাল ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন আবছার রাফি

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চট্টগ্রাম ইপিজেডের থিয়ানিস অ্যাপারেলসের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও মালিকের জালিয়াতি নিয়ে একুশে পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক আবছার রাফির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি ছিল মানবিক সাংবাদিকতার অনন্য উদাহরণ।

সংবাদ প্রকাশের পর বেপজা কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং নিজস্ব তহবিল থেকে শ্রমিকদের এক মাসের বেতন পরিশোধ করে। বর্তমানে কারখানাটি নিলামের প্রক্রিয়া শেষ ধাপে রয়েছে, যা কয়েকশ শ্রমিকের পাওনা আদায়ের পথ প্রশস্ত করেছে।

আনোয়ারায় সাহসিকতার প্রতিচ্ছবি: জিন্নাত আয়ুব পেলেন ‘স্পেশাল ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড’

আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নে সরকারি টাকা লুটের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি নিয়ে করা প্রতিবেদনটি ছিল এ মাসের অন্যতম সাহসী কাজ। আনোয়ারা-কর্ণফুলী প্রতিনিধি জিন্নাত আয়ুব অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের অডিও রেকর্ডসহ দুর্নীতির যে চিত্র তুলে ধরেছেন, তা প্রকাশের পর ইউএনও তাহমিনা আকতার অভিযুক্তদের কাছে হিসাব তলব করেছেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ ও প্রচ্ছন্ন হুমকির শিকার হলেও জিন্নাত আয়ুব সত্যের পথে অটল রয়েছেন। তাঁর এই সাহসিকতা মাঠ প্রশাসনের দুর্নীতিবাজদের কাছে একটি কড়া বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

সরকারি অর্থ রক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য: ‘স্পেশাল ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন এস এম আক্কাছ ও আলাউদ্দীন

ফটিকছড়িতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণাধীন সড়কে অনিয়ম নিয়ে এস এম আক্কাছের প্রতিবেদনের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে পৌর প্রশাসন। বিল আটকে দেওয়ার এই নির্দেশের ফলে সরকারের বিশাল অর্থের অপচয় রোধ হয়েছে।

অন্যদিকে, হাটহাজারীর একটি রেস্তোরাঁয় খাবারের অগ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি নিয়ে মো. আলাউদ্দীনের সংবাদের পর উপজেলা প্রশাসন দ্রুত অভিযান চালিয়ে জরিমানা নিশ্চিত করেছে, যা জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রেখেছে।

সম্পাদকের মন্তব্য: একুশে পত্রিকার সম্পাদকীয় পর্ষদ মনে করে, এই অর্জনগুলো আমাদের সংবাদকর্মীদের নিরলস পরিশ্রম ও মাঠ পর্যায়ে তাঁদের গভীর অনুসন্ধানের ফসল। এই সংবাদগুলো প্রমাণ করে যে, সঠিক তথ্যপ্রমাণসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করলে রাষ্ট্র ও প্রশাসন ব্যবস্থা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।

আমরা আমাদের সকল সহকর্মীকে অভিনন্দন জানাই এবং আশা করি এই সাফল্য আগামীতে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে তাঁদের উৎসাহিত করবে।