৩১ এলওআই পুনর্মূল্যায়নে কমিটি, ৫২৩ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য পিপিএ স্বাক্ষরিত


“শূন্য বিদ্যুতের জন্য টাকা পরিশোধের পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার পর আমরা এই সৌর-কেন্দ্রগুলোতে কোনো সার্বভৌম গ্যারান্টি দিচ্ছি না।”

কথাটি বলেছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম। পনেরো বছর ধরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে যে মডেলে কেন্দ্র না চালিয়েও হাজার হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ নেওয়া হয়েছে, সেই মডেলের বিদায় এই এক বাক্যে।

গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫-এ একুশে পত্রিকায় প্রকাশিত তিন পর্বের অনুসন্ধান-সিরিজে দু’টি কেন্দ্রীয় প্রস্তাব ছিল: এক— ২০২২-২৩ সালে বাতিল হওয়া ৩১টি নবায়নযোগ্য এলওআই পুনর্মূল্যায়ন; দুই— ‘বিশেষ আইন, ২০১০’-এর জায়গায় প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রভিত্তিক রূপান্তর। সাড়ে চার মাসে সরকারের পদক্ষেপ এই দুই প্রস্তাবের সঙ্গেই সঙ্গতিপূর্ণ।

২৮ জানুয়ারি ২০২৬: চট্টগ্রাম, বগুড়া, নীলফামারী ও নোয়াখালীতে ৫২৩ মেগাওয়াটের ৭টি সৌর-প্রকল্পের পিপিএ স্বাক্ষরিত হয়েছে; প্রতিটি প্রকল্প ২০ বছরের জন্য জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।

৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আইইইএফএর লিড অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দেশের মোট নবায়নযোগ্য সক্ষমতা ১,৬৯০.৭ মেগাওয়াট; নির্মাণাধীন আরও ৩৫৮ মেগাওয়াট। ২০৩০-এর ২০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে বার্ষিক ৭৬০ মেগাওয়াট যোগ করতে হবে।

২৭ এপ্রিল ২০২৬: সিপিডি আয়োজিত চতুর্থ বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরামে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঘোষণা দিয়েছেন: “আমি এই সব এলওআই পুনরায় খুলছি। মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের পর যেগুলো বাস্তবসম্মত, সেগুলো বহাল রাখব।” একই ফোরামে তিনি পাঁচ বছরে ১০,০০০ মেগাওয়াট সৌর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন।

একই দিনে বিপিডিবি ১০টি স্থানে ৪৯৫ মেগাওয়াটের নতুন আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে; দরপত্র জমার শেষ তারিখ ২৮ জুন।

৬ মে ২০২৬: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ৩১টি বাতিল এলওআই পুনর্মূল্যায়নের জন্য বিপিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করেছে; সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ।

কমিটি প্রধান বলেছেন, “বাতিল প্রকল্পগুলো আইনি ও বাস্তব দিক বিবেচনায় পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। হাইকোর্টের রায়ের চূড়ান্ত অংশে প্রয়োজনে পুনঃআলোচনার সুযোগ ছিল। সেই সুযোগ ব্যবহার না করে একতরফাভাবে সব প্রকল্প বাতিল করা বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত ছিল না।”

একুশে পত্রিকার একই অনুসন্ধান-সিরিজের দ্বিতীয় পর্বে দেখানো হয়েছিল, মহেশখালীর ১২০ কিলোমিটারের মধ্যে বসে শাহনাজ বেগম মোমবাতি দিয়ে গ্যাস-চাপ পরীক্ষা করেন। ৩১টি বাতিল এলওআই পুনর্মূল্যায়ন কমিটির রায় নির্ধারণ করবে, সেই চিত্র বদলাবে কি না।