
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিভে গেল মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামের আড়াই বছরের এক নিষ্পাপ শিশুর জীবনপ্রদীপ। শনিবার (৪ অক্টোবর) উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের টিলাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। এই ঘটনায় জান্নাতুল আইভি (৫) ও ওয়াসিফা (২) নামে আরও দুই শিশু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহত শিশু মোহাম্মদ ইব্রাহিম ওই এলাকার পুকুরপাড়ার বাসিন্দা মো. বাদশা মিয়ার একমাত্র পুত্র। আহত জান্নাতুল আইভি মোহাম্মদ আইয়ুবের এবং ওয়াসিফা পেয়ারুল ইসলামের কন্যা। তিনটি পরিবারই ওই বাড়িতে ভাড়া থাকত।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে শিশুরা মিলে বাড়ির নিচতলার সিঁড়ির নিচে খেলছিল। তাদের হাসিখুশিতে মুখর ছিল চারপাশ। কিন্তু কে জানত, এই নির্মল আনন্দই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে! খেলার সময় সিঁড়ির নিচের একটি বিদ্যুতের তারে শর্ট-সার্কিট হলে মুহূর্তেই বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিটকে পড়ে তিন শিশু। তাদের আর্তচিৎকারে স্বজনেরা ছুটে এসে দ্রুত বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাদের উদ্ধার করেন।
কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ছোট্ট ইব্রাহিম ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আহত জান্নাতুল আইভি ও ওয়াসিফাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল বাছেত সেই ভয়াল মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “শিশুরা সিঁড়ির নিচে খেলছিল, হঠাৎ করেই বিদ্যুতের তার থেকে আগুন জ্বলে ওঠে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে যায়। স্বজনেরা দৌড়ে এসে বিদ্যুতের প্রধান সংযোগ কেটে না দিলে হয়তো আরও বড় বিপদ হতে পারত।”
এদিকে, সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা আছম আরা। উপজেলা হাসপাতালের মেঝেতে আছড়ে পড়ে তার বুকফাটা আর্তনাদ আর বিলাপে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্বজনদের শত সান্ত্বনাও তার চোখের জল থামাতে পারছিল না।
তিনি বিলাপ করতে করতে বলছিলেন, “আমার বুকের ধন খেলতে গিয়ে আজ আমাকে ছেড়ে চলে গেল। এই ক্ষত আমি কীভাবে মুছব? আমার ইব্রাহিম আর কোনোদিন মা বলে ডাকবে না।” মায়ের এই আহাজারি উপস্থিত কারো পক্ষেই সহ্য করা সম্ভব ছিল না।
খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশু মোহাম্মদ ইব্রাহিমের লাশ পরিবারের কাছে দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হবে এবং আহত দুই শিশু জান্নাতুল আইভি ও ওয়াসিফার চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”