রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

মধ্যরাতে সিএমপির তালিকা সংশোধন: বাদ পড়ল বিএনপি নেতা শওকত আজমের নাম

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ২:২৪ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম নগরীতে ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারী’র প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা সংশোধন করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মধ্যরাতে পাঠানো সংশোধিত তালিকা থেকে নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার বিকেলে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে ৩৩০ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। সেখানে ৪ নম্বর ক্রমিকে ছিল বিএনপি নেতা শওকত আজম খাজার নাম। গণমাধ্যমে এই তালিকা পাঠানোর পর এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে দিবাগত রাত ১২টা ২৪ মিনিটে পুলিশ পুনরায় সংশোধিত তালিকা পাঠায়, যেখানে শওকত আজমের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

সিএমপির জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়, ভুলবশত ওই বিএনপি নেতার নাম তালিকায় চলে এসেছিল। এছাড়া তালিকায় একজন প্রয়াত সাবেক কাউন্সিলরের নামও রয়েছে, যা বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সংশোধিত তালিকায় শওকত আজম খাজার নাম বাদ দেওয়া হলেও নগর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের আরও কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছেন বাকলিয়া থানা বিএনপির নেতা মোর্শেদ খান, কোতোয়ালির যুবদল নেতা হাসান এবং পাহাড়তলীর মাসুম।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, পুলিশ কিসের ভিত্তিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম দুষ্কৃতকারীদের তালিকায় তুলেছে, তা বোধগম্য নয়। কেউ প্রকৃত অপরাধী বা সন্ত্রাসী হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দলের আপত্তি নেই। কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে হামলা চালিয়েছিল এবং নগরের চিহ্নিত অনেক সন্ত্রাসীর নাম এই তালিকায় নেই। অথচ বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তালিকায় বিএনপি নেতার নাম আসা এবং পরে তা সংশোধনের বিষয়ে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, ভুলবশত শওকত আজম খাজার নাম তালিকায় উঠেছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর তা সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া তালিকায় থাকা এক মৃত কাউন্সিলরের নামও বাদ দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, তালিকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আধিক্য প্রসঙ্গে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে ও গোপনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সিএমপির এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর ও সাইফুল আলম লিমনের নাম রয়েছে। এছাড়া ইসকনের সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নামও তালিকায় আছে।

এছাড়া সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে গাজী শফিউল আজিম, শৈবাল দাশ সুমন, সাহেদ ইকবাল, জহরুল আলম জসিম, মোহাম্মদ হোসেন হিরণ, নাজমুল হক ডিউক, হাসান মুরাদ বিপ্লব, গিয়াস উদ্দিন, নূর মুস্তাফা, আবুল হাসনাত বেলাল ও মোবারক হোসেনসহ ৪১টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলরদের নাম রয়েছে।

তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ, তার সহযোগী ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্না শারমিন, মোবারক হোসেন, মোহাম্মদ রায়হান, খোরশেদ, ইসমাইল হোসেন, শহিদুল ইসলাম বুইস্যা এবং নুরুল আলম ওরফে হামকা আলম।

সিএমপি জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ৩৩০ জনের শহরে প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ থাকবে।