শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

জমি বেচে ৪ লাখে সৌদি গিয়ে জিম্মি ফারুক, আকামা চাইলেই জুটছে মারধর

সাতকানিয়ার ‘ফাইভ স্টার এজেন্সি’র বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ | ৯:৪৫ অপরাহ্ন


বাড়ির ভিটে বিক্রি করে ৪ লাখ টাকায় ‘ফ্রি ভিসায়’ সৌদি আরব পাড়ি দিয়েছিলেন মো. ফারুক (৩৮)। স্বপ্ন ছিল পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর। কিন্তু ভাগ্য বদল তো দূরের কথা, সৌদি আরবে গিয়ে এখন জিম্মিদশায় দিন কাটছে তার। আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) ও কাজের দাবি করলেই দালাল চক্রের হাতে জুটছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এমনকি চুরির মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে তাকে।

ভুক্তভোগী মো. ফারুক কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ছাইরাখালী-ছিড়া পাহাড় এলাকার বাসিন্দা।

ফারুকের স্ত্রী কাউসার আক্তার ও পরিবারের অভিযোগ, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটের ‘ফাইভ স্টার এজেন্সি’র মালিক ইফতেখার নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে দুই মাস আগে সৌদি আরবে যান ফারুক। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় বিপত্তি।

ফারুকের স্ত্রী কাউসার আক্তার জানান, দালাল ইফতেখার কথা দিয়েছিলেন সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর ভালো কাজ ও আকামার ব্যবস্থা করে দেবেন। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও আকামা দেওয়া হয়নি। উল্টো ফারুককে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। আকামা বা কাজের কথা বললেই তাকে মারধর করা হচ্ছে এবং মিথ্যা চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “স্বামীকে বাঁচাতে আমরা স্থানীয়ভাবে দালালের বিরুদ্ধে নালিশ করেছিলাম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা সৌদিতে আমার স্বামীর ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমরাও দেশে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

ফারুকের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ের জামাই ভাগ্য বদলাতে শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে এবং ধারদেনা করে ৪ লাখ টাকা ইফতেখারের হাতে তুলে দিয়েছিল। এখন তার জীবন বিপন্ন। আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই এবং ফারুকের সুস্থ অবস্থায় মুক্তি চাই।”

ফারুকের প্রতিবেশী ও স্বজনরা জানান, শুধু ফারুক নন, ওই এজেন্সির প্রতারণার শিকার হয়েছেন আরও অনেকে। প্রতিবেশী বাদশা মিয়া জানান, টাকা দিয়েও অনেকে বিদেশে যেতে পারেননি, আবার টাকা ফেরত চাইলে উল্টো হুমকির শিকার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অবিলম্বে ফারুককে মিথ্যা মামলা ও জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করতে এবং অভিযুক্ত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।