শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

নাছির-নওফেল-চিন্ময়সহ ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারী’কে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে বহিষ্কার

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ | ৬:৪৭ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম মহানগরের শান্তি-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। নগরী থেকে ৩৩০ জন ব্যক্তিকে বহিষ্কার করে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জারি করা এই আদেশের ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা চট্টগ্রাম মহানগরে প্রবেশ বা অবস্থান করতে পারবেন না।

পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮ এর ৪০, ৪১ ও ৪৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

তালিকায় হেভিওয়েট রাজনীতিবিদ ও আলোচিত মুখ

প্রকাশিত ৩৩০ জনের তালিকায় চট্টগ্রামের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, সাবেক মন্ত্রী, মেয়র এবং আলোচিত ধর্মীয় নেতার নাম উঠে এসেছে। তালিকার ১৮০ নম্বর ক্রমিকে রয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। ১৮৮ নম্বরে রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং ১৮১ নম্বরে রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর নাম রয়েছে।

তালিকায় বিশেষভাবে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে ২৪১ নম্বরে রয়েছেন বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চন্দন কুমার ধর, যিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী নামেও পরিচিত। এছাড়া ২৪০ নম্বরে রয়েছেন ফজলে করিম চৌধুরীর ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরী এবং ২৩৯ নম্বরে মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ হলেন আ.লীগ ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা

গণবিজ্ঞপ্তির এই তালিকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বহু নেতাকর্মীর নাম রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সাবেক ছাত্রনেতা ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আজিম রনি (ক্রমিক ১৮৫), শৈবাল দাশ সুমন (ক্রমিক ১৮৬) এবং আলোচিত হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর (ক্রমিক ১৭)। এছাড়া সিআরবি জোড়া খুন মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সাইফুল আলম লিমন (ক্রমিক ১৮), রিটু দাশ বাবলু (ক্রমিক ১৯) এবং ফরহাদুর ইসলাম রিন্টু (ক্রমিক ২০) রয়েছেন।

তালিকায় থাকা অন্য রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে রয়েছেন আবদুস সালাম (ক্রমিক ২৪২), ইমরান আহমেদ ইমু (ক্রমিক ২৪৩), জাকারিয়া দস্তগীর (ক্রমিক ২৪৪), দেবাশীষ পাল দেবু (ক্রমিক ২৪৫), এম আবদুল লতিফ (ক্রমিক ২৪৬), নোমান আল মাহমুদ (ক্রমিক ২৪৭) এবং মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বাচ্চু (ক্রমিক ২৪৮)।

সাবেক কাউন্সিলরদের ওপর নিষেধাজ্ঞা

তালিকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিপুল সংখ্যক সাবেক কাউন্সিলরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন গাজী শফিউল আজম, মো. সাহেদ ইকবাল বাবু, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. এসরারুল হক, মোহাম্মদ কাজী নুরুল আমিন, এম আশরাফুল আলম, মো. মোবারক আলী, মো. মোরশেদ আলম, মো. জহুরুল আলম জসিম, নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, মোহাম্মদ ইসমাইল, মো. নুরুল আমিন, মো. ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, আবুল হাসনাত মো. বেলাল, মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শহিদুল আলম, হাজী মো. হারুন উর রশীদ, মো. নুরুল আলম, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী।

সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে আরও আছেন মোহাম্মদ সলিম উল্ল্যাহ, মোহাম্মদ জাবেদ, নাজমুল হক ডিউক, আব্দুস সবুর লিটন, মো. ইলিয়াছ, মো. শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরী, নজরুল ইসলাম বাহাদুর, গোলাম মো. জোবায়ের, আতাউল্লা চৌধুরী, মো. আবদুস সালাম, বাবু জহর লাল হাজারী, হাসান মুরাদ বিপ্লব, পুলক খাস্তগীর, হাজী নুরুল হক, মো. মোর্শেদ আলী, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, জিয়াউল হক সুমন, আবদুল বারেক এবং ছালেহ আহম্মদ চৌধুরী।

সন্ত্রাসী ও দাগি আসামিরাও তালিকায় রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি তালিকার বড় অংশজুড়ে রয়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দাগি আসামিদের নাম। তালিকার শুরুর দিকে রয়েছেন মো. জাহেদ জাহিদ প্রকাশ পিচ্ছি জাহিদ, মুন্না খান, রাজীব দত্ত রিংকু, শওকত আজম খাজা, মো. মোস্তফা আঃ শফি, মোহাম্মদ হানিফ, মো. আনিসুল হক প্রকাশ রুবেল, মো. ইদু মিয়া, সাইফুল, মো. হাসান, আবু তাহের দিদারুল আলম মাসুম, জাহিদ কালা জাহিদ, আলী হোসেন, আবীর সেন, মো. নাজিম উদ্দিন প্রকাশ কট নাজিম, মাবুদ খান মানিক, কামরুল হাসান এবং মো. মকবুল।

এছাড়া তালিকায় রয়েছেন মো. শুরুর, শিবু প্রসাদ চৌধুরী, হুমায়ুন কবির রিকু, মো. হাসান প্রকাশ হাছান, মো. শফিকুল ইসলাম প্রকাশ শফিক, মো. আব্দুস সোবহান, মো. ইউসুফ প্রকাশ হিরন, সাজ্জাদ প্রকাশ ছোট সাজ্জাদ, খোরশেদ, রায়হান, বোরহান, মোবারক হোসেন ইমন, মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, গোলাম সামদানী জনী, সালেহ আহমেদ ডিগল, নাহিদুল ইসলাম মজুমদার, শাহাদাৎ হোসেন প্রকাশ চুকু, মো. সোহেল, মো. নুরুল আমিন প্রকাশ টিটু, আক্তার হোসেন, জাকির হোসেন, মাসুম প্রকাশ বকলেস মাসুম, সাইদুর রহমান মাসুম, মো. মিনহাজ উদ্দিন, মো. মোর্শেদ আলম, মো. ইউসুফ প্রকাশ সোহেল, মো. শাকিল, মো. আরিফ হোসেন, মো. হোসেন, ইমাম হোসেন প্রকাশ আকাশ, মো. নয়ন, এবিএম মোস্তফা কামাল টিপু ও মো. মোকসেদ আলম।

তালিকায় আরও স্থান পেয়েছেন মো. সাইফুদ্দিন ভেন্ডাইয়া, মো. সাজ্জাদ হোসেন, দেলু, মো. ইউসুফ প্রকাশ ডাকাত ইউসুফ, শহিদুল ইসলাম প্রকাশ বুইশ্যা, মোহাম্মদ ইয়াছিন, আইয়ুব আলী, মো. ইসমাইল হোসেন, মো. বেলাল, হৃদয় বড়ুয়া, মো. আজাদ, মো. আবুল হোসেন, মো. হাসান, ইমরান হোসেন প্রকাশ ইমন, মো. ইমন হোসেন, মো. রাকিব, মো. ইদ্রিস (ক্রমিক ৭২ ও ৭৩), টিটন কুমার চৌধুরী ছোটন, নুরুল আলম প্রকাশ হামকা নুর আলম, মো. দিদারুল আলম, আব্দুল কাদের মাসুদ, মানিক কালো মানিক, আব্দুল কুদ্দুস বাপ্পী, মো. আরমান বাচ্চু, মো. জাহাঙ্গীর, সাইফুল ইসলাম প্রকাশ বার্মা সাইফুল, মো. সবুজ, মো. সামশু, ছাবের আহম্মদ টারজেন, আনোয়ার সোর্স আনোয়ার, বাহার উদ্দিন বাহার, শামসুদ্দিন বাদল, সাজ্জাদ আলী, মো. শাহজাহান বাদশা, দেলোয়ার হোসেন প্রকাশ দেলু, অন্তর শীল, সালাউদ্দীন, পুতুল প্রকাশ সাগর, আব্দুল মালেক সোহেল, মো. হাবিবুরর রহমান, মো. মামুন, মো. ইকবাল, মো. ইউছুফ প্রকাশ ফয়সাল, মুরাদ, মো. বাবলু রাশেদ হোসেন (ক্রমিক ১০১ ও ১০৮), আজিজ মোহাম্মদ আজিজ, মো. রুবেল, মো. ফজলুর করিম ফজু, মো. আরমান হোসেন প্রকাশ জিসান, মো. আব্দুল মামুন, মো. এনাম, আব্দুল কাদের সুজন, রাজন এবং লুৎফর।

কমিশনারের কড়া বার্তা

জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এই পদক্ষেপ অপরিহার্য ছিল বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কমিশনার হাসিব আজিজ কঠোর অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। গত বছরের ১৩ আগস্ট তিনি অস্ত্রধারীদের দেখামাত্র গুলির মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং একটি ভিডিও বার্তায় তাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, পুলিশের টহল দলের সামনে কেউ অস্ত্র বের করলে ‘এসএমজি ব্রার্স্টফায়ার’ মোডে থাকবে এবং এর সম্পূর্ণ দায়ভার তিনি নিজে বহন করবেন।