শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২

বাঁশখালীতে জামায়াত-বিএনপি উভয়ের ঘরেই অস্বস্তি

জোটের প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা, জহিরুলের মাথাব্যথা এখন রুহুল্লাহ
মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন | প্রকাশিতঃ ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ | ১২:৪২ পূর্বাহ্ন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জোট রাজনীতির সমীকরণ ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন ভাগাভাগি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। ফলে এই আসনে জোটের একক প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসন সমঝোতা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ওই দিনই রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে রাত ৮টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জোটের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলন—কোনোটিতেই উপস্থিত ছিলেন না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর)। যদিও বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অনুপস্থিত ছিল, তবুও জোটের পক্ষ থেকে দলটির জন্য নির্দিষ্ট কিছু আসন রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের একক প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হলেও এই সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না। কারণ একই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মাঠে রয়েছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামী অন্যান্য সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখনো তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। এই অনিশ্চয়তাই এখন জামায়াত প্রার্থী জহিরুল ইসলামের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার বলেন, পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দলীয় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এবং তার মনোনয়ন বৈধও ঘোষিত হয়েছে। এখন তারা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।

এদিকে জোটের আরেক শরিক নেজামে ইসলাম পার্টিও চট্টগ্রাম-১৬ আসনটি চেয়েছিল। দলটির চেয়ারম্যান মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর বাড়ি বাঁশখালীর বৈলছড়ি ইউনিয়নে হওয়ায় তার ছেলে মুসা বিন ইজহার দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে মাঠে সক্রিয় ছিলেন।

তবে বৃহস্পতিবার নেজামে ইসলাম পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সঙ্গে জামায়াতের আসন সমঝোতা হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। সমঝোতার অংশ হিসেবে এলডিপির অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মুসা বিন ইজহার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অন্যদিকে কেবল জোটের সমীকরণই নয়, বিএনপির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী। সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করা লেয়াকত আলী কেন্দ্র থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ পেলেও অনড় অবস্থানে রয়েছেন। তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আরিফুল হক তায়েফের মনোনয়ন প্রথমে বাতিল হলেও আপিলে নির্বাচন কমিশন তা বৈধ ঘোষণা করায় তিনি পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরেছেন। তবে গণঅধিকার পরিষদ বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকায় শেষ পর্যন্ত আরিফুল হক তায়েফ মাঠে থাকবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দেবাশীষ দাশ জানান, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ দিনে ৯ জন জমা দেন। যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৯ জন। তবে এলডিপি ও নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থীরা সরে দাঁড়ালে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন মোট ৮ জন প্রার্থী।

বৈধ প্রার্থীরা হলেন—জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মাওলানা রুহুল্লাহ তালুকদার, সুন্নি ঐক্যজোটের মাওলানা আব্দুল মালেক আশরাফী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এহসানুল হক, গণঅধিকার পরিষদের অ্যাডভোকেট আরিফুল হক তায়েফ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ দোস্ত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন (যিনি মনোনয়নপত্র জমা দেননি)।