
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় স্কুলছাত্র শাহেদ ইসলাম হত্যা মামলায় মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর নিজেকে শাহেদের ‘মামা’ পরিচয় দিয়ে নিখোঁজের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে খোঁজাখুঁজিতে সক্রিয় ছিলেন। এমনকি মরদেহ উদ্ধারের সময়ও তাকে আহাজারি করতে দেখা গিয়েছিল।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তাকে আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন—একই এলাকার আহমদ উল্লাহ (৩৪) ও মো. আরিফ (২৫)।
গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর আলম পারুয়া ইউনিয়নের পূর্ব সাহাব্দীনগর মহতপাড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। নিহত স্কুলছাত্র শাহেদ একই এলাকার মোহাম্মদ আব্দুল মোনাফ ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির সন্তান।
রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন বলেন, “সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাকেসহ সন্দেহভাজন আরও দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা বলেন, “জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে শক্ত প্রমাণ রয়েছে। সে অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে ও ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ থেকে জানা যায়, শাহেদের মরদেহ উদ্ধারের দিন জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি নিজেকে শাহেদের মামা পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে আহাজারি করেছিলেন। নিখোঁজের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজিতেও অংশ নেন। পুলিশের তদন্তে তার সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন স্কুলছাত্র শাহেদ। রাতে আত্মীয়-স্বজন সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। পরদিন মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় একটি বিলে শাহেদের গলাকাটা মরদেহ পাওয়া যায়।