শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

হাটহাজারীতে ওরশের প্রস্তুতিতে বাধা ও হামলা, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ | ১০:৩০ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ওরশ শরীফ উপলক্ষে আয়োজিত মাহফিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে থানা পুলিশ। এর আগে গত মঙ্গলবার উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের মাহামুদাবাদ গ্রামে খোশাল শাহ (র.) এর মাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর ১৯ জানুয়ারি মাহামুদাবাদ গ্রামে খোশাল শাহ (র.) এর ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। গত মঙ্গলবার ওরশ উপলক্ষে মাজার সংলগ্ন এলাকায় খুঁটি স্থাপন ও প্রস্তুতির কাজ করতে গেলে অভিযুক্তরা মাজার কমিটির লোকজন ও স্থানীয়দের বাধা দেন। একপর্যায়ে বাদী আবু আহমেদের ছেলে মো. রুবেলের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তার পকেটে থাকা নগদ ৮ হাজার ১৩০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এ সময় রুবেলকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, সাহেদুল করিম ও মো. মিরাজকেও মারধর করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুবেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আব্দুল মাবুদ (৪৫), মো. সাহেদুল আমিন শিমুল (৪৪), রাশেদুল ইসলাম মামুন (৪৪), মো. তৌহিদুল আলম (৪৮), মো. তছলিম উদ্দিন প্রকাশ চৈড়ুই (৪৩), মো. নজরুল ইসলাম (৪৬), বদিউল আলম (৫৫), মো. সেলিম উদ্দিন (৫৫) ও মো. জয়নাল আবেদীন মানিক (৪৬)।

মামলার বাদী আবু আহমেদ জানান, তার ছেলে রুবেলকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে সে বাড়িতেই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়েছে, মামলা করলে তারা রুবেলকে দেখে নেবে।

এ বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলা (নম্বর-০৮) রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ওরশ উপলক্ষে কোনো ধরনের আয়োজন না করতে উভয়পক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।