রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

চকরিয়ায় কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে উধাও কৃষি কর্মকর্তা

মুরগি বিক্রেতা থেকে সহকর্মী—রেহাই পাননি কেউ
এম. জিয়াবুল হক | প্রকাশিতঃ ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ১০:২২ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের চকরিয়ায় অংশীদারত্ব ব্যবসার প্রলোভন এবং অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে অর্ধশত মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন রাজীব দে (৩৭) নামের এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা।

টাকা ফেরত না পেয়ে ইতোমধ্যে তিনজন ভুক্তভোগী আদালতে চেক প্রতারণার মামলা করেছেন। এসব মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও গত চার মাস ধরে লাপাত্তা অভিযুক্ত রাজীব। তিনি চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী হিন্দুপাড়া এলাকার কানুরাম দে’র ছেলে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, সরকারি চাকরির আড়ালে রাজীব দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতেন। প্রথমে তিনি পরিচিতজনদের কাছ থেকে ১-২ লাখ টাকা ধার নিতেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তা ফেরত দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করতেন। পরে অংশীদারত্ব ব্যবসা বা কম দামে জমি কিনে বেশি লাভে বিক্রির কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। বিনিময়ে জামানত হিসেবে দিতেন ব্যাংক চেক।

জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ভুক্তভোগী জানান, প্রথমে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে সময়মতো ফেরত দিয়ে রাজীব তার বিশ্বাস অর্জন করেন। পরে কম দামে জমি কিনে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে ৪০ লাখ টাকা নেন। বিনিময়ে চেক দিলেও দুই-তিন মাস পর থেকে রাজীবের আর কোনো খোঁজ মিলছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, এনজিওতে জমানো ১০ লাখ টাকা তিনি রাজীবের হাতে তুলে দিয়েছিলেন অধিক মুনাফার আশায়। এখন সেই টাকা হারিয়ে তিনি নিঃস্ব।

অভিযোগ রয়েছে, রাজীব দে শুধু ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সঙ্গেই নয়, প্রতারণা করেছেন নিজের অফিসের সহকর্মী, বাজারের মাছ-মাংস ও মুরগি বিক্রেতাদের সঙ্গেও। তার বিলাসী জীবনযাপনে মুগ্ধ হয়ে বাজারের ব্যবসায়ীরা তাকে বাকিতে সদাই দিতেন, এমনকি নগদ টাকাও ধার দিতেন। রাজীবের উধাও হওয়ার খবরে তারাও এখন বিপাকে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ জন ব্যক্তির কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী জানান, রাজীব দে গত কয়েক মাস ধরে অফিসে অনুপস্থিত। প্রতারণার বিষয়টি জেনে এবং তার অনুপস্থিতির কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তার বেতন-ভাতাও বন্ধ রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা বাস্তবায়ন করা হবে।

টাকা আত্মসাতের ঘটনায় চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনজন ভুক্তভোগী আলাদা তিনটি মামলা করেছেন। এসব মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি আগে জানা ছিল না। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর পরোয়ানা তামিলের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”