সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রামে ফিরছে বিদেশি এয়ারলাইন্স, বাড়ছে ফ্লাইটের সংখ্যা

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৫ অক্টোবর ২০২৫ | ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একে একে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার পর আবারও ফিরতে শুরু করেছে। এক বছর ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখার পর দুবাইভিত্তিক বিমান সংস্থা ‘ফ্লাই দুবাই’ এবং ফ্লাইট সংখ্যা দ্বিগুণ করে ‘সালাম এয়ার’ চট্টগ্রামে ফিরে আসায় বিমানবন্দরটি আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

বিষয়টিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের জন্য স্বস্তির এবং বিমানবন্দরের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রাম-দুবাই রুটে প্রতিদিন একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে ফ্লাই দুবাই। এর জন্য প্রয়োজনীয় শিডিউল ও স্লট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ওমানভিত্তিক বিমান সংস্থা সালাম এয়ার চট্টগ্রাম-মাস্কট রুটে তাদের ফ্লাইট সংখ্যা সপ্তাহে ৭টি থেকে বাড়িয়ে ১৪টি করেছে।

অর্থাৎ, এখন প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি। এছাড়া শারজাহ ও আবুধাবি রুটে যাত্রী পরিবহনকারী এয়ার এরাবিয়াও সপ্তাহে আরও একটি ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০০০ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ১৭টি বিদেশি এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছিল। এর মাধ্যমে যাত্রীরা মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও কলকাতা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে সরাসরি যাতায়াত করতে পারতেন। কিন্তু নানা কারণে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১১টি এয়ারলাইন্স তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

এরপর কোভিড মহামারি এবং পরবর্তী সময়ে যাত্রী সংকট ও অন্যান্য কারণে একে একে স্পাইস জেট, জাজিরা এয়ারওয়েজ, ওমান এয়ার এবং সবশেষে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্লাই দুবাই চট্টগ্রাম ছাড়ে।

এতে বিদেশি বিমান সংস্থার মধ্যে শুধু এয়ার এরাবিয়া ও সালাম এয়ারের ওপর নির্ভর করে ছিলেন যাত্রীরা, যা তাদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আব্দুল্লাহ আলমগীর বলেন, “অবকাঠামোগত সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর এখন দেশের অন্যতম প্রধান গেটওয়েতে পরিণত হয়েছে। যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের ফলে যাত্রীচাপ বেড়েছে এবং বিমান সংস্থাগুলোও ফিরতে শুরু করেছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।”

বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিল বলেন, “ফ্লাই দুবাই এবং সালাম এয়ারের ফ্লাইট বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিদেশি বিমান সংস্থা চট্টগ্রামে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য যোগাযোগ করছে।”

এই নতুন ফ্লাইটগুলো চালুর ফলে চট্টগ্রাম থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং ভাড়ার ক্ষেত্রেও একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।