সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তোরণ-বিলবোর্ড

| প্রকাশিতঃ ২১ মার্চ ২০১৮ | ৮:৩০ পূর্বাহ্ন

আবু আজাদ, পটিয়া থেকে : আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পটিয়া আগমনকে কেন্দ্র করে সাজ সাজ রব পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে। শেখ হাসিনাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত এই পূণ্যভূমি। রাস্তার দুই পাশে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

রাস্তার মোড়ে মোড়ে তৈরি হয়েছে তোরণ। এই প্রচারণায় পিছিয়ে নেই মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সমর্থকরা ‘এমপি হিসেবে দেখতে চাই’ লিখে তোরণ ও বিলবোর্ড তৈরি করেছেন। পটিয়া শহর ও আশপাশের এলাকায় শোভা পাচ্ছে এমন তোরণ, বিলবোর্ড ও ব্যানার।

পাঁচ বছর পর চট্টগ্রামে বড় আকারের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এরপর নির্বাচনী বছরে প্রধানমন্ত্রী তার উপহার স্বরূপ ৪১ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করছেন। এর মধ্যে ২৮টি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনযোগ্য প্রকল্প, ১৩টি উদ্বোধনযোগ্য প্রকল্প।

ইতোমধ্যে পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠ প্রধানমন্ত্রীর জনসভার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। নৌকার আকৃতিতে সাজানো হয়েছে মঞ্চ, পাশেই বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিস্থাপনের ফলক নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীকে বরণে উৎসবের জনপদে পরিণত হয়েছে পুরো চট্টগ্রাম। ব্যানার-ফেস্টুন, দলীয় প্রতীক নৌকার ছড়াছড়ি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে। এরমধ্যে ‘এমপি হিসেবে দেখতে চাই’ তোরণ বিলবোর্ড আছে চোখে পড়ার মত। প্রধানমন্ত্রী যে পথ দিয়ে যাবেন, সেই পথগুলোতে বিলবোর্ড-পোস্টারে মনোনয়ন চাওয়ার কথা তুলে ধরেছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যর পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা বাণীর অভাব নেই।

এসব পোস্টার-ব্যানারের উপরের কোনায় ছোট করে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেয়া হলেও বাম কিংবা ডান কোনায় থাকছে প্রচারকারীর বড় ছবি। বড় আকারে নিজের ছবি দিয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে ছোট করে আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অমান্য করছেন পদধারী নেতারাও। সরকার ও দলের উন্নয়ন প্রচারণার চেয়ে নিজেদের প্রচারণায় যেন তাদের কাছে বেশি।

বিলবোর্ড, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যতীত অন্য কারো ছবি ব্যবহার করা যাবে না। আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর এ নির্দেশ দিয়েছিলেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে দলটির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নির্দেশনামূলক চিঠি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকের কাছে পাঠানো হয়েছিল।

সমাবেশে নেতাদের বড় ছবি ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। কিন্তু এমন বুলিতে কর্ণপাত করছেন না কর্মীরা।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীমের জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জনসভার মাঠে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির প্রচারণায় পোস্টার, ব্যানার লাগাতে পারবে না। জনসভার দিনও কেউ ব্যক্তিগত প্রচারণা চালাতে পারবে না। নেতাকর্মীদের নিজের প্রচারণার চেয়ে দলীয় প্রচারণা বেশি চালানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। কেউ যেন ব্যক্তিগত প্রচারণা না চালায় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।’

একুশে/এএ