সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রাম কলেজে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৩

| প্রকাশিতঃ ৩১ জুলাই ২০১৬ | ২:০০ অপরাহ্ন

ctgচট্টগ্রাম: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম কলেজের সামনে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে তিনজন। জঙ্গিবাদবিরোধী মানববন্ধন করতে গিয়ে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

গুলিবিদ্ধ তিনজন হলেন- বাপ্পী (২২), জীবন (২২) ও ইমাম (২২)। আহত অবস্থায় তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে বাপ্পী বেসরকারি বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি ও অন্য দুইজন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই পঙ্কজ বড়–য়ার বলেন, বাপ্পী ও জীবনের পায়ে এবং ইমামের পিঠে গুলি লেগেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চকবাজার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নুরুল মোস্তফা টিনুর অনুসারীরা মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম কলেজে প্রবেশ করে। এরপর তারা জঙ্গিবাদ বিরোধী মানববন্ধন করার চেষ্টা করলে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির অনুসারীরা বাধা দেয়। এরপর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় রনির অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মীরা কলেজের ভেতরে আটকা পড়ে। টিনুর অনুসারীরা অবস্থান নেয় কলেজের সামনের রাস্তায়। এতে চট্টগ্রাম কলেজের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল ৩টার দিকে রাস্তায় অবস্থান নেয়া টিনুর অনুসারীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এই সুযোগে কলেজের ভেতরে আটকে থাকা রনির অনুসারীরা বেরিয়ে যায়।

টিনুর অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা সুভাষ মল্লিক সবুজ বলেন, জঙ্গিবাদবিরোধী মানববন্ধনের পর প্রেসক্লাব থেকে মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম কলেজের সামনে আসি আমরা। এ সময় নুরুল আজিমের অনুসারী মাহমুদুল করিমের নেতৃত্বে আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে তিনজন কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

অন্যদিকে রনির অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম বলেন, সকালে আমরা কলেজের ভেতরে অবস্থান করছিলাম। বহিরাগতরা মিছিল নিয়ে এসে আমাদের ওপর গুলি চালায়। এতে আমাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে।

চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জেসমিন আক্তার বলেন, ঘটনার পর কলেজের মূল গেইট বন্ধ রাখা হয়। তবে কলেজের সব ধরণের কার্যক্রম ক্লাশ চালু ছিল।

চকবাজার থানার ওসি আজিজ আহমেদ বলেন, ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে কলেজ মূলফটক বন্ধ করে দুই পক্ষকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয় পুলিশ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।