সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

থানায় পলাতক আসামীর মামলা !

| প্রকাশিতঃ ২ অগাস্ট ২০১৬ | ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রাম : গ্রেফতার না করে এজাহারভুক্ত ‘পলাতক আসামী’র মামলা নিল কোতোয়ালী থানা পুলিশ। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদিসহ বাদির পরিবারের ৩ সদস্যকে আসামি করেছেন সেই ‘পলাতক আসামী’। প্রভাবশালী ওই আসামির নাম উজ্জ্বল কুমার চন্দ ওরফে শান্তনু (৪৫)। তিনি নগরীর টেরিবাজারের রঘুনাথ বাড়ির বাসিন্দা।

গত ১৫ জুলাই ভোর ৫ টার দিকে নগরীর টেরিবাজারের দয়াময় মা মনসা দেবী ও সূর্য্য ঠাকুরের মন্দিরের হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। ঘটনার পরপর উজ্জ্বল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মন্দিরে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে কোতোয়ালী থানায় এজাহার দায়ের করেন মন্দিরের পুরোহিত স্বপন আচার্য্য। অনেক দেন দরবারের পরও এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেননি পুলিশ।

ফলে পুলিশ মামলা না নেওয়ায় গত ১৮ জুলাই মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন পুরোহিত স্বপন আচার্য্য। অভিযোগটি আমলে নিয়ে কোতোয়ালী থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে মামলা রুজুর আদেশ দেন আদালত। আদালতের আদেশে কোতোয়ালী থানার ওসি জসিম উদ্দীন গত ১৯ জুলাই রাত ৮ টা ৩০ মিনিটে উজ্জ্বল ও তার সহযোগী মো. আলমগীরসহ ৩০/৪০জন অজ্ঞাত আসামীর নামে এজাহার গ্রহণ করেন।

800এর ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর রাত ১১ টা ৪৫ মিনিটে বাদি স্বপনসহ তার পরিবারের ৩ সদস্যের বিরুদ্ধেও স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে উজ্জ্বলের দেয়া অভিযোগ মামলা (মামলা নম্বর ৩৭) হিসেবে গ্রহণ করেন ওসি মো. জসিম উদ্দীন। এসময় কাছে পেয়েও স্বপনের দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামী উজ্জ্বলকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

মামলার বাদি স্বপন আচার্য্য বলেন, আমি আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতায়ালী থানাকে নির্দেশ দেয়। থানার ওসি মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের প্রায় ৩ ঘণ্টা পর মামলার বিবাদী থানায় হাজির হলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার না করায় এবং আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অজুহাতে আরেকটি মামলা করায় আমি আমার দায়েরকৃত মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে সংশয়ে আছি।

এব্যাপারে জানতে চাইলে কোতায়াতলী থানার ওসি মো.জসীম উদ্দিন মামলার আসামী হিসেবে থানায় উপস্থিত হয়ে উজ্জ্বলের কাউন্টার মামলা করার বিষয়টি একুশেপত্রিকাডটকমের কাছে স্বীকার করেন। মামলার আসামী থানায় উপস্থিত হয়ে দিব্যি কাউন্টার মামলা করেন, কিন্তু গ্রেফতার হন না- এটা কী করে সম্ভব জানতে চাইলে ওসি জসীম উদ্দিন বলেন, মামলার আসামী হলেই সাথে সাথে তাকে গ্রেফতার করতে হবে আইনে সেরকম কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। মামলার আসামী হওয়া মানেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাওয়া নয়। এখানে তদন্তের ব্যাপার থাকে, দোষী-নির্দোষ পরখ করার বিষয় থাকে।

1000ভুক্তভোগীরা থানার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মামলা দায়ের করতে পারেন না, আর অভিযুক্তরা মামলা মাথায় নিয়েই তিনঘণ্টার ব্যবধানে কাউন্টার মামলা করেন কী করে- জানতে চাইলে ওসি জসীম বিষয়টি এড়িয়ে যান।

প্রসঙ্গত, গত ৪ জুলাই কোতোয়ালী থানায় সালমা আকতার পপি নামে ভুয়া নাম ঠিকানার এক কথিত নারীর দায়ের করা ‘ভুয়া ধর্ষণ’ মামলা গ্রহণ করে কোতোয়ালী থানা। ওই মামলায় ১৯ জুলাই সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ মরফলা গ্রামের মৃত গুরামিয়ার পুত্র দুবাই প্রবাসি ছাবের আহমদ নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন। ২৫ জুলাই তার দুবাই কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার কথা ছিল।

*** বিদেশ নয়, ছাবেরের ঠাঁই হল কারাগারে