মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭

দুই বছর পর চবি শিক্ষক আনোয়ারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদন

প্রকাশিতঃ শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২০, ১০:৫০ অপরাহ্ণ


চবি প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানায় আদালত থেকে পাঠানো রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া।

এ বিষয়ে ওসি আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, ‘আদালতের নির্দশনামতে মামলাটি গত ২৩ তারিখে রেকর্ড করা হয়েছে। এটা ২০১৮ সালেই কোর্টে চলে গিয়েছিল। রাষ্ট্রদ্রোহিতার ধারা থাকাতে এটি আদালত সরকারের যথাযথ অনুমোদন নেয়ার জন্য প্রেরণ করেন। অনুমোদন চলে আসায় আমরা মামলাটি রেকর্ড করি। এটির তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মামালাটি তদন্ত করছেন।

জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘গ্লোবাল জার্নাল অব হিউম্যান সোশ্যাল সাইয়েন্স : সোসিওলজি অ্যান্ড কালচা ‘ নামে এক জার্নালে ‘রিলিজিয়াস পলিটিক্স অ্যান্ড কমিউনাল হারমনি ইন বাংলাদেশ : এ রিসেন্ট ইমপাস’ শিরোনামে চবি শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।

২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বিভাগীয় সভাপতি বরাবরে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির আবেদন করেন। এতে তিনি ওই প্রবন্ধ সংযুক্ত করেন। এরপর ওই প্রবন্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

বিতর্কিত ওই বিষয়গুলো উল্লেখ করে ২০১৮ সালের ১৭ মে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান তানভীর বাদি হয়ে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেহ মো. নোমানের আদালতে দণ্ডবিধির ১২৩ (ক), ১২৪ (ক), ১৭৭, ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারায় মামলা করেন।
মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ থাকায় আদালত মামলার আর্জি গ্রহণ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা অনুযায়ী সরকারের অনুমতি নিয়ে এই মামলার এজাহার গ্রহণের জন্য পাঁচলাইশ থানাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। অবশেষে দুই বছর পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে মামলাটি রেকর্ড হলো।

ওই মামলায় বাদি অভিযোগ করেন, প্রকাশিত প্রবন্ধে একাধিকবার বাংলাদেশের মহান স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হলেও একবারও তিনি জাতির জনক কিংবা বঙ্গবন্ধু শব্দটি ব্যবহার করেননি। এতে জাতির জনকের প্রতি আনোয়ার হোসেনের তাচ্ছিল্য প্রকাশ পেয়েছে।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধকে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রবন্ধে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হিজাব পরিধান, হাটহাজারীর নন্দীরহাটে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে ও উপাসনালয়ে হামলা, রামু বৌদ্ধবিহারে সহিংসতা, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও আনা হয় আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

এর আগে, ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ বাসা থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর রহস্যজনক মৃত্যুতে দায়ের হওয়া মামলার আসামি আনোয়ার হোসেন ২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দীর্ঘ কারাবাসের পর জেল থেকে বের হয়ে আনোয়ার হোসেন আবারও শিক্ষকতায় ফেরেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।