সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

আফ্রিকার দেশ গিনিতে এবার ইবোলা মহামারির প্রকোপ

| প্রকাশিতঃ ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ১২:৫৪ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনিতে এবার ইবোলা মহামারি প্রকোপ দেখা দিয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এই ভাইরাসে তিনজন লোক মারা যাওয়ার পর সরকার ইবোলা মহামারি ঘোষণা করেছে। আল জাজিরা জানায়, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নতুন করে সেখানে এই ভাইরাসে আরও চারজন আক্রান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, আক্রান্ত সাতজন লাইবেরিয়ার সীমান্তের কাছে গুয়েকে একটি শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর তাদের ডায়রিয়া, বমি এবং রক্তক্ষরণের মত উপসর্গ দেখা দেয়। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোববার জানিয়েছে, আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এই পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী গিনি সরকার দেশটিতে ইবোলা মহামারি ঘোষণা করেছে।’

সেখানকার জাতীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান সাকোবা কেইতা স্থানীয় প্রচার মাধ্যমকে জানান, নিহতদের মধ্যে একজন নার্স জানুয়ারির শেষের দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ১ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। তিনি বলেন, ‘কিছু লোক যারা এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন তাদের কয়েকদিন পরে ডায়রিয়া, বমি, রক্তপাত এবং জ্বরের মত উপসর্গ দেখা দেয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী রেমি লামাহ বলেছেন যে কর্মকর্তারা এই মৃত্যু নিয়ে ‘সত্যিই উদ্বিগ্ন’ ছিলেন। কারণ এর আগে গিনিতে শুরু হওয়া ইবোলা মহামারিতে ২০১৩-২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকা জুড়ে ১১ হাজার ৩শ’ লোক মারা গিয়েছিল। এসবের মধ্যে বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা গিনি, লাইবেরিয়া এবং সিয়েরা লিওনে ছিল।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, করোনার মধ্যে ইবোলা নিয়ে যুদ্ধ গিনির স্বাস্থ্য সেবার উপর নতুন করে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। প্রায় ১২ মিলিয়ন মানুষের এই দেশে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮৯৫টি করোনাভাইরাস সংক্রমণ এবং ৮৪ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

আল জাজিরা জানায়, ইবোলা ভাইরাসের ফলে তীব্র বমি এবং ডায়রিয়া হতে পারে। এতে কোভিড-১৯ এর তুলনায় এর মৃত্যুর হার অনেক বেশি যদিও করোনাভাইরাসের মত উপসর্গ ছাড়া এটি ছড়ানোর কোনও আশংকা নেই। রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য সংস্থা এএনএস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ইবোলা নির্ণয় নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় দফা পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা এই রোগের উৎস খুঁজে বের করতে কাজ করছে। গিনি সরকার জানিয়েছে, ইবোলা টিকা পেতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে যোগাযোগ করবে।