সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

সড়ক নয়, যেন ডোবা!

| প্রকাশিতঃ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ১০:২৭ অপরাহ্ন

মোর্শেদ নয়ন : সড়কের বহু জায়গায় পিচ ধুয়ে খোয়া উঠে গেছে। কোথাও কোথাও পিচের চিহ্ন মাত্র নেই। তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। তাতে বৃষ্টির পানি জমে অনেকটা ডোবায় পরিণত হয়েছে সড়কটি।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগর বিএফডিসি সড়কের পুরাতন ব্রীজঘাট বাজার থেকে বিএফডিসি গেইটের মুখ পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে সড়কের এমন করুণ।

এবড়ো-খেবড়ো এ সড়কে যানবাহন চলে হেলে দুলে, ঝুঁকি নিয়ে। সড়কের গর্তে মাল বোঝাই ট্রাক আটকে যায় যখন তখন। এতে শুরু হয় যানজট। কর্দমাক্ত ভাঙা এ সড়কে হেঁটে চলারও উপায় নেই। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

জানা যায়, ইছানগরে দুইটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি ও সুগার মিল সহ শতাধিক ভারী ও মাঝারি শিল্প কারখানা রয়েছে। সড়ক পথে ইছানগর যাওয়ার একমাত্র সড়ক এটি। ফলে সারাক্ষণই এ সড়কে যানবাহনের চাপ থাকে। প্রতিদিন বাস-ট্রাক-অটোরিকশাসহ হাজারের বেশি যানবাহন চলে। কিন্তু সড়কটিতে সংস্কার কার্যক্রম নেই দীর্ঘদিন।

জানতে চাইলে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল মিয়া একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বরাদ্দ পেলে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, পুরাতন ব্রীজঘাট কাচা বাজার থেকে আজিম পাড়া ডাকঘর ও আলমগীর কোল্ড ষ্টোরের সামনে সড়কজুড়ে ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ। তাতে পানি জমে ডোবায় পরিণত হয়েছে। রাস্তা এবড়ো-খেবড়ো হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। ঝুঁকি এড়াতে বেসরকারী একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গর্তে ভাঙা ইট ফেলতে দেখা গেছে।

আয়ুব বিবি সিটি করপোরেশন স্কুলের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ আরাফাত মামুন জানান, কাদাপানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। ভাঙা সড়কের কারণে বিদ্যালয়ে যেতে রিকশাচালক হাঁকে দ্বিগুণ ভাড়া।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আনিস বলেন, ‘রাস্তার বেহাল দশার কারণে মাঝেমধ্যেই গাড়ির চাকা খুলে যায়। চেসিস ও অ্যাক্সেল ভেঙে যায়।’

ব্যবসায়ী ইমরান পাটোয়ারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তার এই বেহাল দশা। সড়কের ওপরে ছোট-বড় যেসব ডোবা তৈরি হয়েছে, সেখানে মাছ চাষ করা যাবে। কাদার যন্ত্রণা তো আছেই।’

ইছানগর চার রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকানদার মো. বেলাল বলেন, ‘এ রাস্তায় চলতে খুবই কষ্ট হয়। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী, রোগী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের ভোগান্তিতে পড়তে হয় বেশী।

নবনির্বাচিত কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সড়কটির দুরবস্থা আমি সরেজমিন দেখেছি। জনগণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমি শপথের পর সড়কটি সংস্কারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’