সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না মেধাবী ছাত্র জুনায়েদের

| প্রকাশিতঃ ৩ অক্টোবর ২০১৭ | ৭:০৯ অপরাহ্ন

মো. আলাউদ্দীন, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : স্কুল ছাত্র জুনায়েদ সুস্থ ভাবে বাঁচতে চায়। সুস্থ হয়ে স্কুলে যেতে চায়, খেলতে চায় বন্ধুদের সাথে। কিন্তু জন্ম থেকেই এক কঠিন রোগে নিয়ে অসুস্থ জীবন যাপন করছে মেধাবী ছাত্র জুনায়েদ। তার অসুস্থ বাবা পৃথিবীতে থেকেও নেই, থাকেনও আলাদা। রাখেন না পরিবারের খোঁজ খবরও।

বড় ভাই বিয়ে করে বউ নিয়ে থাকেন আলাদা। প্রতিমাসে খালার পাঠানো অল্প টাকা দিয়ে চলে জুনায়েদ, তার মা ও দাদী -এ তিন সদস্যের পরিবার। বর্তমানে টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় জুনায়েদের শরীরের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে।

জুনায়েদ (১৩) চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ছিপাতলী ইউনিয়নের কাজিরখীল গ্রামের বুধা গাজী মহল্লাদার বাড়ীর আবুল কাশেম ও মরিয়ম বেগমের দ্বিতীয় ছেলে।

প্রতিবেশী জিয়াউর রহমান, লিংকন ও মামুন জানান, জুনায়েদের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫/৬ লাখ টাকার প্রয়োজন। যা অসুস্থ জুনায়েদের পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয় তাই সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা এবং জুনায়েদের পরিবার।

ঈদগাহ বহুমুখী স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মতিয়ার রহমান জানান, ছাত্র হিসেবে সে খুবই ভালো। ৬ষ্ঠ শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র জুনায়েদ জন্মের পর থেকেই এ রোগে ভোগার কারনে নিয়মিত স্কুলে আসতে পারে না।

জুনায়েদের খালাত ভাই হাটহাজারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র মুবিনুল আলম জানান, জুনায়েদের দরিদ্র পরিবারের পক্ষে তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয় তাই সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছি। বিত্তবানরা সহযোগিতার হাত বাড়ালেই কেবল এ মেধাবী ছাত্র সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

সাহায্যের জন্যে বিকাশ নম্বর হচ্ছে: ০১৭৫৩৪২০০৪৯ (জুনায়েদ)। সরাসরি যোগাযোগ: ০১৮৩৯৮৮৩৮৫৮ (জুনায়েদের মা)

অসুস্থ জুনায়েদ বলেন, অন্যদের মতো যখন আমি খেলতে পারিনা, ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারিনা, তখন খুবই খারাপ লাগে। আমি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে চাই, লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে মায়ের সেবা করতে চাই।

স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার ইসমাইল বলেন, ছেলেটা খুবই সহজ সরল ভদ্র। জন্মের পর থেকেই সমস্যাটা নিয়ে সে কস্ট যন্ত্রনা বয়ে বেড়াচ্ছে। শুধুমাত্র দারিদ্রতার কারণে চিকিৎসা করাটা সম্ভব হচ্ছেনা।

এমন মেধাবী একজন ছাত্রকে সুস্থ করে তুলতে সমাজের বিত্তবানদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শেখ ফজলে রাব্বির বলেন, রোগী না দেখে কি রোগ তা বলাটা কঠিন। তবে লক্ষণ শুনে মনে হচ্ছে সমস্যাটা মুত্রথলি যথাস্থানে না থাকার কারণে হচ্ছে। আর নিউরোলজিস্টদের মতে একে ইকটুপিয়া ভেসিকি বা ব্লাডার এক্সট্রোপি বলা হয়। আমাদের দেশেই এ রোগের চিকিৎসা আছে।