
কর্ণফুলী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, বালুমহালের ইজারা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ইছাখালী এলাকায় ‘রাঙ্গুনিয়ার সচেতন ছাত্রসমাজ ও সর্বস্তরের জনসাধারণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে দাবি আদায়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দিনের পর দিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে কর্ণফুলী নদীর পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। এর মারাত্মক প্রভাবে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে এবং নদীপাড়ের সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।
এসব বিপর্যয় ঠেকাতে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের কাছে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন:
১. আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কর্ণফুলী নদীর সব বালুমহালের ইজারা ও বালু উত্তোলন বাতিল করতে হবে।
২. তিন দিনের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নদী রক্ষা কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে।
৩. নদীপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার করতে হবে।
৪. অবিলম্বে কর্ণফুলীর মূল বেতাগী পয়েন্টে নিরাপত্তা ব্যারিকেড স্থাপন করতে হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে রাঙ্গুনিয়ার সব শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
কর্মসূচি শেষে একটি মিছিল উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।
এ বিষয়ে ইউএনও কামরুল হাসান বলেন, “তাঁদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক এবং আমি আগেও এ বিষয়ে সোচ্চার ছিলাম। আমি তাঁদের চার দফা দাবির সঙ্গে পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করছি।”
তিনি আরও জানান, স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে দাবির বিষয়টি এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।