সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা : নেতারা যা বললেন

| প্রকাশিতঃ ২১ মার্চ ২০১৮ | ৭:১৭ অপরাহ্ন

আবু আজাদ, পটিয়া থেকে : প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় বক্তৃতা দিতে এসে চট্টগ্রামের ভাষায় শুরুতেই ওবায়দুল কাদের বলেন, অনরা কেন আছন? ভাইয়েরা কেন আছন? বাংলাদেশ এখন আর গরিব দেশ নাই। আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছি । এখানে একটি জনসভা, এর বাইরে আরো পাঁচটি জনসভা। আমি শুধু জানতে চাই সরকারের উন্নযনের প্রতি আপনাদের আস্থা আছে কিনা? আজ ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৪ কোটির হাতে স্মার্টফোন। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ৮ কোটি মানুষের ঘরে ইন্টারনেট। এসব কে দিযেছে? বিধবাভাতা, গ্রামে গ্রামে ডিজিটাল সেন্টার, মেয়েদের ভাতা কে দিয়েছে।

আগে বাচ্চারা তার বাবার নামে পরিচিত হতো, এখন মাযের নামও লাগে। শেখ হাসিনা বাচ্চার সাথে মায়ের নাম জুড়ে দিয়েছে। উপবৃত্তির টাকা মাযের কাছে যায়, বাবার কাছে নয়। শেষে বলেন, আবার যদি ইচ্ছে করে, ফিরে যেতে চাই কর্ণফুলির তীরে।

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, ‘ষোল কোটি মানুষের শেষ ঠিকানা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ৮ বছর আগে যে বিদেশ গিয়েছিলো, তার বিমান যখন ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য আকাশে উড়ে সে তখন ভাবে হয়তো থাইল্যান্ডে এসে পড়েছে। কারণ সে কুরিল ফ্লাইওভার দেখে আকাশ থেকে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানতে যে ল্যান্ড করে সে চট্টগ্রাম চিনতে পারে না। কারণ সে যাবার সময় ফ্লাইওভার দেখে যায়নি। শহরের সাথে সাথে গ্রামও বদলে গেছে। ছনের ছানির পরিপর্তে এখন টিনের ঘর উঠছে। টিনের ঘরের জাযগায় উঠছে দালান। বলেন হাছান মাহমুদ।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘কিছুই চাইবো না, কারণ চাওয়ার আগেই আপনি সব দিয়ে দিয়েছেন। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আপনার উন্নয়ন-যাত্রাকে অব্যাহত রাখতে চাই। দক্ষিণ চট্টগ্রামের ছয়টি আসন আপনাকে উপহার দিতে চাই।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তার প্রয়াত বাবা মহিউদ্দিন চৌধুরীর কথা স্মরণ করে বলেন, ‘মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে বাবা আমার কাছে বারবার জানতে চাইছিলেন, দেশের রাজনীতির কী অবস্থা? আমরা বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে পারি নাই। প্রধানমন্ত্রীর কিছু হয়ে গেলে দেশ ২০ বছর পিছিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তেইশ বছরে কোনো উন্নতি হয় নাই। আবারো ওরা এলো পাঁচ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় থাকার সময় ভুড়ি ভুড়ি লাশ দিয়েছিলো। প্রধানমন্ত্রী দিযেছেন উন্নয়ন। এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। বলেন নওফেল।

পটিয়ার এমপি শামসুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা কিচু চাই না, আমরা চাই আবারো জয়যুক্ত হতে, আবারো প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় বসাতে। আমার একটি হাসপাতাল আছে , হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করতে চাই। একটি মহিলা কলেজ আছে , কলেজটির মেয়েদের যাতায়াতের জন্য ২টি বাস প্রয়োজন। রাঙ্গুনিয়ার সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য রাস্তাটা দরকার।

সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার এমপি ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন নদভী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামী ফাউন্ডেশন তৈরী করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাস্তবায়ন করেছেন। পটিয়ার মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী একটি আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন আজ থেকে ৯০ বছর আগে। প্রধানমন্ত্রী স্বতন্ত্র আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন। ১০১০ জন কওমি শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা দিয়েছেন। ১০১০ জন কওমি আলেমকে সরকারি চাকরি দিয়েছেন।

আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় যখন জঙ্গিবাদ চাষাবাদ হচ্ছে, তখন আলেম সমাজকে মূলধারায় রেখে প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদকে রুখে দিয়েছেন। একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর কারণেই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ টিকে নাই বলেন মন্তব্য করেন এমপি নদভী।