চট্টগ্রাম : …ইব্রাহীম আঃ এর জীবনী থেকে আমরা এই শিক্ষা পাই যে, আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য পিতামাতা/সন্তান/স্ত্রী কিছুই না। এগুলো সবই পরীক্ষার বস্তু।
আল্লাহ্ বলেন, ‘আমি মানুষকে নিজের পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু যদি তারা তোমার ওপর চাপ দেয় যে, তুমি এমন কোন (মা’বুদকে ) আমার সাথে শরীক করো (কিংবা এই দ্বীনের কাজে বাধা দেয়), তাহলে তাদের আনুগত্য করো না। আমার দিকেই তোমাদের সবাইকে ফিরে আসতে হবে, তখন আমি তোমাদের জানাবো তোমরা কি করছিলে ৷’ – সুরা আনকাবুত, ৮
… সেই ওমর রাঃ বলছেন, ‘আমরা যে মর্যাদা পেয়েছি তা আমাদের পিতামাতাকে ছেড়ে না দিলে পেতাম না’। চিন্তা করুন, যে জান্নাত দেখে রাসুল সাঃ আকাঙ্ক্ষা করেন সেই জান্নাতের অধিকারী বলছেন পিতা মাতাকে ছেড়ে না দিলে সেটা পাওয়া যেত না। ওই জান্নাত কি পাওয়ার ইচ্ছা আছে?
এছাড়াও অন্যান্য সাহাবীগণ এবং তাবেঈ তাবেঈগন ইসলামের জন্য পিতামাতাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। কারণ পিতা মাতার সাথে সম্পর্ক কেবল এই দুনিয়ায়, পরের জীবনে তারা আমাদের কোন কাজেই আসবেন না। জন্মের আগেও পিতা মাতার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক ছিল না, পরেও থাকবে না। পিতামাতা আল্লাহ্র একটি নিয়ামত এই পৃথিবীতে আসার জন্য। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে আপনজন আল্লাহ্ ও রাসুল সাঃ। জান্নাত তো দুনিয়ার এই জীবনের জন্য কিছুই না।
আল্লাহ্ বলেন, ’ওহে মানবজাতি! তোমাদের প্রভুকে ভয়-ভক্তি করো, আর সেই দিনকে ভয় করো যখন কোনো পিতা তার সন্তানের কোনো কাজে আসবে না, আর না কোনো সন্তান আসবে পিতামাতার জন্য। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্র ওয়াদা চিরন্তন সত্য, সেজন্যে এই দুনিয়ার জীবন যেন তোমাদের প্রবঞ্চনা না করুক। (সুরা লুকমান : ৩৩)”
গোটা বিশ্বের সকল আলেমদের উপস্থিত করে আযযাম রহঃ ফতোয়া দিয়েছেন যে ’জ্বিহাদ করার জন্য একজনের প্রয়োজন নেই অপরজনের নিকট অনুমতি নেওয়ার। সন্তানের প্রয়োজন নেই পিতামাতার অনুমতির।’
আল্লাহ্ আমাদের বোঝার তাউফিক এনায়েত করুন, আমীন।
জঙ্গিদলে যোগ দেয়া চট্টগ্রামের আনোয়ারার আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে সাব্বিরুল হক কনিক তার ফেইক আইডিতে (আইডি নাম্বার দুই) বাবা-মার বাধা উপেক্ষা করে জিহাদে যেতে ২০১৪ সালে এই স্ট্যাটাস দিয়ে নিচে উল্লেখ করেন কালেকটেড ফ্রম জাফরান হাসান সূর্য।
কে এই জাফরান হাসান সূর্য- অনুসন্ধানে নেমে ফেসবুকে বর্তমানে এই নামে কোনো আইডি পাওয়া না গেলেও তার বেশ’কজন অনুসারীর খোঁজ মিলেছে। ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর হেফাজতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মুফতি ইজহারের লালখানবাজার মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মুফতি ইজহারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে যারা বোমা বিস্ফোরণের কথা বলেছেন তাদেরকে কাফের আখ্যা দিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। আর এটি শেয়ার করে দিগন্ত বার্তাসহ তার অনুসারীরা।
২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর জাফরান হাসান সূর্য আরেক স্ট্যাটাসে লিখেন- ‘তুমি সপ্তাহে একদিন মসজিদে গিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আর আমি প্রতিদিন গিয়ে জঙ্গি’। স্ট্যাটাসটি গুরুত্ব দিয়ে শেয়ার করেন নিশান রাশেদ নামে তার এক অনুসারী।
পতেঙ্গা টিএসপি কমপ্লেক্স স্কুল থেকে এসএসসি, চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন নিশান রাশেদ। প্রফেশন হিসেবে লেখা আছে ওয়ার্ক্স এট স্ল্যাব অব আল্লাহ। অর্থাৎ আল্লার ক্রীতদাস। তার প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের ছবি। আর টাইমলাইন ভরে তোলা হয়েছে উগ্র জঙ্গিবাদি স্ট্যাটাসে। ২৯ জুলাই কল্যাণপুরের জঙ্গি অভিযান নিয়ে তিনি লিখেন- রাতভর মুহুর্মুহু গুলি আর বোমা ফুটাতে ৯ জনের মাত্র ৪ টা পিস্তল, ডজনখানেক জং ধরা ছুরি আর হাতুড়ি লাগে এমনকি কোন বোমাও লাগে না!
২৭ জুলাই কল্যাণপুরের জঙ্গি অভিযান সংক্রান্ত একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদের স্টিল ছবি আপলোড দিয়ে লিখেন ‘একটি জঙ্গি পরিবেশনা’।
এছাড়া তিনি মুখমন্ডল আড়াল করে পিস্তল তাক করা একটি ছবি শেয়ার করেন ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। ছবির ক্যাপশনে লিখেন ‘ক্রাইম মাস্টার গোগো মিয়া ওরফে সাসা’।
সেখানে মাহমুদুর রহমান নামে একজন কমেন্ট করেন- ‘একটা সিরিয়াস ইস্যু নিয়ে হাসি তামাশা করার কিছু নাই…’।
গাজীপুরের এই মাহমুদুর রহমান থাকেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। তার ফেসবুক ওয়ালও ভরা কোরআন-হাদিসের বয়ানে। এছাড়া নিলয় আরমান, ইনসান ইবনে জামিল (সারবেন্ট অব আল্লাহ), রেজা উল কবির, ইবনে আদাম, মিনহাজুর রহমান (ইনসাইট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকার শিক্ষক), মুকতাদার আহমেদ সাব্বির (চবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র), শাহাবুদ্দিন নূরসহ বেশ কয়েকজন তরুণ প্রতিদিন উগ্রবাদি বক্তব্য দিচ্ছেন, জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করছেন ফেসবুকের মাধ্যমে চালিয়ে।
ইবনে আদাম নামের এই তরুণ কয়েকদিন আগে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমকে উদ্দেশ করে বলেন, এমন ভ্যাকসিন বানান যেন জঙ্গি মাতৃগর্ভে বেড়ে উঠতে না পারে। এছাড়া সাংস্কৃতিক বন্ধাত্বই জঙ্গিবাদ তৈরি হচ্ছে বলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে বিশিষ্ট ‘বুদ্ধিপতিতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন ইবনে আদাম।
তবে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানিক ক্যামিস্ট্রির ছাত্র শাহাবুদ্দিন নূর। ২৭ জুলাই কল্যাণপুরে জঙ্গি অভিযানে নিহত একজনের ছবি ট্যাগ করে তিনি লিখেন- ছবিটি ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় ছেলেটিকে হাতে গুলি করার ফলে হাতের হাঁড় ভেঙ্গে বের হয়ে গেল, কব্জির একটু উপরে মাংস ছিঁড়ে গেলো। অথচ এরপরও ছুরিটি হাতেই রয়ে গেলো? মুখে বুকে এতোবার গুলি করার পরও ছুরিটি ফেললো না কেন ছেলেটি? পুলিশ বলছে সারারাত ধরে জঙ্গীরা মুহুর্মুহু গুলি করছে। কিন্তু দুই তিনটি পিস্তল দিয়ে কিভাবে সারারাত গুলি করা সম্ভব? পুলিশ বলছে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তাহলে তারা এতো গোলাবারুদ বাদ দিয়ে সামান্য আপেল কাটার ছুরি দিয়ে কেন প্রতিরোধ করবে?
নাটক মঞ্চায়ন করেন, ঠিক আছে। তবে স্ক্রিপ্ট এতো দূর্বল হলে কেমনে?
শাহাবুদ্দিন নূরের প্রোফাইল পিকচারে দুই হাত তুলে মুনাজাত করার দৃশ্য দেখা যায়। প্রফেশন হিসেবে আছে সোলজার এট স্ল্যাব অব আল্লাহ।