চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের সদর-সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারী এরাদুল হক ওরফে ভুট্টো। এই সরকারী কর্মচারী অফিসে আসেন ২৫ লাখ টাকা মুল্যের গাড়ি হাকিয়ে! অথচ এই পদের একজন কর্মচারীর বেতন মাসিক ১৫ হাজার টাকা।
এরাদুল হক ওরফে ভুট্টো চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার জনারধনপুর গ্রামের আজিজ মাস্টার বাড়ির আবদুল হান্নানের ছেলে।
চট্টগ্রামের সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবীশ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ভুট্টো। রেজিস্ট্রি অফিসের ভলিউম জালিয়াতির অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া কর্মচারী মামা জানে আলমের হাত ধরে তার এই চাকরি।
বর্তমানে তিনি সেই অফিসের অফিস সহকারী। অফিসে আসেন ২০১২ মডেলের চট্টমেট্রো-গ-১২-৭৬৪৯ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের প্রিমিও কারে চড়ে। যার বাজার মুল্য ২৫ লাখ টাকা।
সরকারী কর্মচারী পরিচয়ের চেয়ে সরকারদলীয় রাজনৈতিক দলের একজন নেতা, আয়করদাতা ব্যবসায়ী পরিচয় দিতে ভালোবাসেন ভুট্টো। মিরসরাই উপজেলা স্বেচ্চাসেবক লীগের আহ্বায়ক ও এলাকার একজন দানবীর সমাজসেবক হিসেবেও নিজেকে জাহির করেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বেশ বড়সর টেবিল নিয়ে বসেন এই অফিস সহকারী। রেজিস্ট্রির পূর্বে ‘ওকে’ সম্মতি আদায়ের জন্য দলিল পেশ করতে হয় তার টেবিলে।
অভিযোগ রয়েছে, ‘ক্যালকুলেটর’ ব্যবহার করে ‘ঘুষ’ অংক নির্ধারণ করেন তিনি। দাবি মতো ঘুষ দিতে সম্মত হলেই মিলে তার সম্মতি। ভুলভ্রান্তি খোঁজে বের করে দলিলের উপর শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার গুরু দায়িত্বও পালন করেন তিনি। তিনি নাখোশ হলে দলিলে হাজারটা ভুল, খোশ হলেই সাতখুন মাফ। তিনি ‘ওকে’ দিলে, মিলবে সাব-রেজিস্ট্রারের ‘পাশ’।
তুহিন নামের এক ভুক্তভোগী জানান, ‘আমি মার্কেট নির্মাণ করার জন্য ৩৩ জন দোকান ভাড়াটিয়াসহ রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়েছিলাম একটি ত্রি-পক্ষীয় চুক্তি করার জন্য। কিন্তু দলিলের সরকারি ফি ছাড়াও ভুট্টোর দাবি মতো ঘুষের টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সেই দিন দলিল রেজিস্ট্রি করতে পারিনি। অথচ আমার ওই সব দোকান ভাড়াটিয়ারা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছিল। এরপর তাদেরকে এক সাথে পেতে আমার প্রায় এক বছর লেগেছিল। পরে অনেক টাকা দিয়ে ভুট্টোকে ম্যানেজ করেছি।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে এরাদুল হক ওরফে ভুট্টো বলেন, ‘আমি ২৫ লাখ টাকার গাড়ি চালালে, আপনার সমস্যা কী। আপনার যা বলার সামনা-সামনি এসে বলুন।’ এরপরই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন ভুট্টো।