ঢাকা: গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলায় সন্দেহভাজন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত আর করিম এবং কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র তাহমিদ হাসিফ খানের আট দিন করে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালতে হাজির করে দুজনের ১০ দিন করে রিমান্ড চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির। শুনানি শেষে বিচারক এই আদেশ দেন।
এর আগে বেলা তিনটার দিকে নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাসনাত আর করিম ও তাহমিদ হাসিফ খানকে আদালতে তোলা হয়েছে। এ সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ এই দুই সন্দেহভাজনকে ঘিরে রাখে। এদের আশেপাশেও কাউকে ঘেঁষতে দেয়া হয়নি।
গত ১ জুলাই অভিজাত আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। কিন্তু হামলার সময় হাসনাত করিম ও তাহমিদ ভেতরে থাকলেও জঙ্গিরা তাদের কিছুই বলেনি। ওই রেস্তোরাঁয় কমান্ডো অভিযান শেষে জীবিত উদ্ধার ১৩ জনকে পুলিশ নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর মধ্যে ১১ জন বাড়ি ফিরলেও হাসনাত ও তাহমিদ ফেরেননি বলে অভিযোগ করে আসছিলেন তার স্বজনরা। তবে পুলিশ বরাবর তাদেরকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তবে এই হামলায় এই দুইজন সন্দেহভাজন বলে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ওই হামলার এক মাসেরও বেশি সময় পর বুধবার সন্ধ্যা ও রাতে রাজধানীর গুলশান ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে হাসনাত ও তাহমিদকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। এরপর তাদেরকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করে আদালতে তোলে বাহিনীটি।
হাসনাত আর করিম নর্থ সাউথের শিক্ষক থাকাকালে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে জড়িয়েছিলেন। এই অভিযোগে ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে। গুলশান হামলাকারীদের একজন নিবরাস ইসলাম তার সরাসরি ছাত্র ছিলেন। ওই রাতে আর্টিজান বেকারিতে সিসি ক্যামেরায় হাসনাত করিমকে জঙ্গিদের সহযোগিতা করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আর বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কানাডিয় নাগরিক তাহমিদ হাসিফ খান সে দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। গুলশান হামলার আগের দিন তিনি দেশে ফেরেন। এবং ওই সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে তিনি আর্টিজান বেকারিতে গিয়েছিলেন। ওই রাতের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাকেও হামলাকারীদের সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করছে পুলিশ।