সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

‘বঙ্গবন্ধুর ছেলের নামে ক্লাবে জুয়ার আসর বরদাশত করা হবে না’

হুইপ সামশুলের প্রতি ইঙ্গিত করে মেয়র নাছির

প্রকাশিতঃ সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ২:৫৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীকে ইঙ্গিত করে চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ছেলে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাই শেখ কামালের নাম দিয়ে ক্লাব করবেন, সেখানে জুয়ার আসর বসিয়ে সেই টাকা দিয়ে ক্লাব পরিচালনা করবেন- এসব অন্যায় কেউ বরদাশত করবে না। আমি তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাই এসব কর্মকাণ্ডের।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর ১ নং ওয়ার্ডে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

এসময় মেযর বলেন, আমার বগলে কোনো গন্ধ নেই, তাই বুকে সাহস আছে। বগলে গন্ধ থাকলে বুকে সাহস থাকতো না। ক্লাব তো আমিও চালাই। আমি ব্রাদার্স ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট। ব্রাদার্স ইফনিয়ন ফুটবল লীগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ক্রিকেট লীগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত অনেকগুলো ডিসিপ্লিনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কই আমি তো আমার ব্রাদার্স ইউনিয়নে ক্লাবঘর করিনি। কারণ ক্লাবঘর করলেই নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। আমার ক্লাব এই ধরনের ফালতু কাজের সাথে জড়িত নয়।

মেয়র বলেন, ক্রীড়াঙ্গনের নামে ক্লাব করলে সেখানে খেলাধূলার পরিবেশ সৃষ্টি করাই একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। কেউ যদি বলে থাকেন ক্লাব চালানোর জন্য জুয়ার আসর প্রয়োজন ,আমি এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মানুষের জীবনে বিনোদনের প্রয়োজন আছে। আর বিনোদনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো ক্রীড়াঙ্গন। ক্রীড়াঙ্গনের মতো এমন পবিত্র একটি অঙ্গনকে পরিচালনা করতে হলে নিজের পকেট থেকে হোক বা প্রয়োজনে শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে অনুদান নিয়ে হোক যে কোনোভাবে পরিচালনা করা যায়। কিন্তু মদের আসর বসিয়ে, জুয়ার আসর বসিয়ে, ক্যাসিনো ব্যবসা করে সেই টাকা দিয়ে আপনার ক্লাব চালাতে হবে এমন কথা সংবিধানের কোথাও উল্লেখ নেই।

প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেটা বলেন, সেটাই করেন। তার আগের সরকার শুধু সুন্দর সুন্দর কথা বলেছেন। কিন্তু সুন্দর সুন্দর কাজ করেননি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে সেভাবে দুর্নীতিবাজদেরও দমন করা হবে। নিজের দলকেও ছাড় দেয়া হবে না। আগে নিজের দলের দুর্নীতিবাজদের দমন করবেন। তারপর অন্য দলের দুর্নীতিবাজদের দমন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এসব কথার প্রতিফলন আপনারা ইতোমধ্যে দেখতে পাচ্ছেন। নিজ দলের অঙ্গসংগঠনের বড় বড় দুর্নীতিবাজদের কীভাবে ধরা হচ্ছে। কাউকেই ছাড় দেয়া হচ্ছে না। সব জুয়ার আসরেই অভিযান চালানো হচ্ছে। এর নেপথ্যে যত বড় ক্ষমতাবান ব্যক্তিই থাক না কেন তাদের কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে।

সিটি কর্পোরেশনের যুগ্ম জেলা জজ জাহানারা ফেরদৌস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আকতারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এসময় উপস্থিত ছিলেন।

একুশে/এইচআর/এটি