
ঢাকা : জামালপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে আহমদ কবীরের বিরুদ্ধে আনিত নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিল।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগ) মো. মনির উদ্দিন শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এ কথা জানান।
সূত্র জানায়, জামালপুরের সাবেক ডিসি আহমেদ কবীরের সঙ্গে তারই দফতরের নারী অফিস সহকারীর শারীরিক সম্পর্কের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক তদন্তের জন্য ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর আহমেদ কবীরকে জামালপুর থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়।
এর পরপরই ঘটনা সরেজমিন পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি প্রায় তিন সপ্তাহ সময় নিয়ে ঘটনা তদন্ত করে ২২ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। কমিটিকে ভিডিও-সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হলেও কমিটি সার্বিক একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
এ ছাড়া কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ডিসির কাজের ধরন অনুযায়ী বিশ্রাম নেওয়ার জন্য খাসকামরা থাকতেই পারে। কিন্তু সেখানে দরজা বন্ধ করে খাট-পালঙ্ক না রেখে ইজি চেয়ার বা ডিভানের মতো কোনো আসবাবপত্র রাখা যেতে পারে।
সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগ) মো. মনির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মচারি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮’ অনুযায়ী আহমেদ কবীরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আহমেদ কবীরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে মনির উদ্দিন বলেন, সাময়িক বরখাস্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। এরপর বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২৫ সেপ্টেম্বর বুধবার জামালপুরের সাবেক ডিসি আহমেদ কবীরকে সাময়িক বরখাস্ত করে আদেশ জারি করেছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে।
একুশে/এসসি