শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

কাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি না পেয়ে আ.লীগের তিন শীর্ষ নেতার ক্ষোভ

| প্রকাশিতঃ ৫ জানুয়ারী ২০১৭ | ৫:৫৭ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: দশম জাতীয় নির্বাচনের তৃতীয় বর্ষ পূর্তিতে দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের কাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি না পেয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝেড়েছেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের তিন শীর্ষ নেতা মহিউদ্দিন চেীধুরী, আ জ ম নাছির উদ্দিন ও খোরশেদ আলম সুজন।

‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষায় সরকারের তৃতীয় বর্ষপূর্তি’ পালনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই সমাবেশের আয়োজন করে।

নগর কমিটির কয়েকজন সহ-সভাপতি ও সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য এবং নির্বাহী কমিটির বেশ কিছু সদস্য এই সমাবেশে অনুপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের মধ্যে শুধু সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদ বেগম সাবিহা নাহার মুসা উপস্থিত ছিলেন।

হাতোগোণা দুয়েকটি ওয়ার্ড ও থানা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে শুধুমাত্র ওমরগণি এমইএস কলেজ এবং সিটি কলেজ থেকে পৃথক দুটি মিছিল সমাবেশস্থলে আসে। নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু উপস্থিত থাকলেও ওয়ার্ড-থানা থেকে আসেনি যুবলীগের কোন মিছিল।

নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, দলে বহু মানুষ আছে যারা কোন দিকে বিএনপি-জামায়াত আছে সেদিকে উঁকি মারে। অন্য দলকে নয় নিজের দলকে ভালোবাসুন। এদেশের মানুষকে ভালোবাসুন। ৫ জানুয়ারি অনেক মানুষ মারা গেছে। রক্ত দিয়ে অনেকে এমপি উপহার দিয়েছেন। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা অনেককে এমপি বানিয়েছেন। আজকে দলের এত গুরুত্বপূর্ণ একটা কর্মসূচি, মাত্র একজন ছাড়া আর কোন এমপি আসেননি। আজ শুধু একজনকে পেয়েছি- সাবিহা মুসা, উনাকে ধন্যবাদ।

এদিকে দায়িত্ব পালন না করলে পদে থাকা নেতাদের পদ ছেড়ে দেবারও আহ্বান জানিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। সমাবেশে নাছির বলেন, স্বাধীনতার সুফল দেশবাসীকে পৌঁছে দিতে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল করতে হবে- এটা সবাই মুখে বলে। কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে না। আমরা কে কোন পদ অলঙ্কৃত করছি সেটি বড় কথা নয়। সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা নিয়ে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

আ জ ম নাছির বলেন, যারা পদ নিয়ে বসে আছেন, দায়িত্ব পালন করেন না, সভা সমাবেশে আসেন না… আমাদেরও তো কাজ আছে, দায়িত্ব আছে। আমরা তো প্রত্যেকটি সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করছি। আপনাদের লজ্জা থাকা উচিত। পদ অলঙ্কৃত করবেন, সংগঠনের কাজে আসবেন না, সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন এটা তো হতে পারে না। সংগঠনের সাথে প্রতারণা করতে পারেন না। নগর থেকে তৃণমূলে থানা-ওয়ার্ড প্রতিটি পর্যায়ে এমন লোক আছে। পদের প্রতি সুবিচার করুন। অন্যথায় স্ব উদ্যোগে পদ ত্যাগ করুন। অবিলম্বে কার্যকরী কমিটির সভা ও বর্ধিত সভা করব।

সভাপতির বক্তব্যে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, তোমাদের তৈরি হতে হবে, আমাদের বয়স হয়ে গেছে। তবু রাজপথ ছাড়ি নাই। চলাফেরা করতে না পারলেও সভা-সমাবেশে যাচ্ছি। কষ্ট হোক, আমি বেঁচে তো আছি। যতদিন বেঁচে থাকব, দলের জন্য কাজ করে যাব। এখন দল ক্ষমতায়। সেজন্য অনেকে কর্মসূচিতে আসছেন না। তারা নিজের লাভের জন্য দল করছেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মহিউদ্দিন বলেন, ১০ জানুয়ারি লালদীঘি ময়দানে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সমাবেশের আয়োজন করা হবে। এ বিষয়ে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে ৬০ জন নেতা আছেন। এই ৬০ জন অবশ্যই তার অন্যান্য নেতাকর্মী নিয়ে আসবেন। একা আসলে হবে না। আমি আসলাম, মিটিং এর সামনে বসে বসে পা নাড়ালাম, তা হবে না। বহুত সহ্য করছি। একদিন দুই দিন তিন দিন। আর সহ্য করবো না।

তিনি বলেন, দলের ভেতরে অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। তারা দলের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করে দলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। ছাত্রলীগের কেউ যদি অপকর্ম করে কোন ছাড় দেব না।

সমাবেশে নগর কমিটির প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাংসদ সাবিহা মুসা, নগর কমিটির সহ-সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ও সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, উপ-প্রচার সম্পাদক শহীদুল আলম, বাকলিয়া ওয়ার্ডের নেতা সিদ্দিক আলম এবং কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ বাচ্চু।