সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের শিক্ষা-সহায়তায় একদল তরুণ

| প্রকাশিতঃ ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ | ৮:১৩ অপরাহ্ন


ইফতেখার সৈকত, চবি : করোনাভাইরাসের এই মহামারিতে বন্ধ দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের সময় কাজে লাগাতে উপায় খুঁজছেন শিক্ষার্থীরা। কেউবা কাজ করছেন করোনা সচেতনতা নিয়ে, আবার কেউবা নিজেদের যুক্ত করেছেন সামাজিক কার্যক্রমের সাথে।

তেমনিভাবে সদ্য উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহায়তা দিতে এক হয়েছেন চবি, ঢাবি ও বাকৃবির কয়েকজন শিক্ষার্থী। যা এলাকার নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-কার্যক্রমে অনেকটাই ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। আর তাদের কাজে এগিয়ে এসেছেন ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারা।

জানা যায়, নিজেদের উপজেলায় উচ্চ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস থেকে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে একদল মেধাবী তরুণ। লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ভোটমারীতে গত অক্টোবরের দিকে এই শিক্ষা সহায়তা কেন্দ্র চালু করেন তারা।

উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণী পার করা কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি সহায়তা নিয়ে তাদের সাথে কথা বললে তারা এই কার্যক্রমটি শুরুর উদ্যোগ নেয়। আর এই শিক্ষা কার্যক্রম পুরোটাই বিনামূল্যে। ওই উপজেলায় অধ্যয়নরত দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন এই কাজে।

শুরুর দিকে স্থান নির্ধারণে জটিলতা দেখা দিলেও দমে যাননি এই তরুণ দল। পরে স্থানীয় আনোয়ারুল ইসলাম নামে এক শিক্ষকের সহায়তায় একটি কক্ষে শুরু করেন পাঠদান কার্যক্রম। এবং আনুষাঙ্গিক খরচ জোগাড়ে এগিয়ে আসেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের ও এলাকার বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা। শুরুর দিকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জন হলেও ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে।

সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এমন উদ্যোগে সামিল হয়েছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওয়াজকুরনী খান, নুরুজ্জামান আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. বাবলু মিয়া, মো. মোসাব্বির সেতু, তসনুবা, হিরা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নাহিদ ইসলাম।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ওয়জকুরনী খান একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমরা চাই আমাদের দেশটা শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক। আর তার জন্য আমাদের গ্রামগুলোতে শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে। তবে দরিদ্রতা গ্রামে শিক্ষা বিস্তারে বড় প্রতিবন্ধকতা। আর এই প্রতিবন্ধকতা যাতে মেধাবীদের থামিয়ে না দেয় সেই ইচ্ছা থেকেই আমাদের উদ্যোগ। আমারা চাইছিলাম সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে। সচরাচর নিজেদের পড়াশোনার জন্য আমাদের সুযোগ হয়ে ওঠে না৷ তাই বন্ধের এই সময় এমন উদ্যোগের কথা মাথায় আসে।

তিনি বলেন, যদিও চলমান করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলাম। তবে সব রকমের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমরা এই কার্যক্রম পরিচালনা করছি। চাইবো সামনে এটি অব্যাহত রাখতে। এসময় এই মেধাবী তরুণ এমন উদ্যোগে সায় দেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মোসাব্বির সেতু একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমরা চাই জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাক আমাদের এলাকায়। এলাকার মেধাবীরা তাদের স্থান খুঁজে পাক। শিক্ষার্থীরা যাতে উচ্চ শিক্ষায় সঠিক গাইডলাইন পায় সেজন্যই আমরা এই উদ্যেগ গ্রহণ করেছি। আর আমি আশা করছি এইরকম উদ্যেগ আমাদের দেশে শিক্ষা বিস্তারে অনেকটুকু ভূমিকা রাখবে।

জানতে চাইলে ভোটমারী এস.সি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তাদের উদ্যোগটা সত্যি প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে আমাদের এলাকার শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষায় আরও এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, শুরুর দিকে তারা স্থান নিয়ে সমস্যায় পড়ে। পরে আমার কাছে আসলে আমি এর সমাধানের চেষ্টা করি। যেহেতু তারা একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই কার্যক্রম হাতে নিয়েছে আমি চাইবো তারা এগিয়ে যাক।