
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে আলোচিত ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল মোরশেদ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় দায়ের হওয়া মামলা চারদিনের মাথায় মহানগর ডিবি পুলিশ (উত্তর) বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (১২ মার্চ) বিকালে বিভিন্ন আলামতসহ মামলার ডকেট ডিবির সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছেন পাঁচলাইশ থানার ওসি (তদন্ত) কবিরুল ইসলাম।
বিষয়টি একুশে পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন পাঁচলাইশ থানা ওসি আবুল কাশেম ভুঁইয়া। এর আগে গত ৮ এপ্রিল কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল হক রাসেলসহ চারজনকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন আবদুল মোরশেদের স্ত্রী ইশরাত জাহান চৌধুরী।
মামলার এজাহারভুক্ত বাকি তিন আসামি হলেন পারভেজ ইকবাল, জাবেদ ইকবাল, সৈয়দ সাকিব নাঈম উদ্দিন এবং অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন।
এদিকে, গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদি ইশরাত জাহান বলেন, ‘এটা আত্মহত্যা নয়, ফোর্স ডেথ।’ এজাহারে বাদি অভিযোগ করেন, ‘আমার স্বামীর ফুফাতো ভাই জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, পারভেজ ইকবাল চৌধুরী ও পাঁচলাইশের সৈয়দ সাকিব নাঈম উদ্দীনের কাছে থেকে ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্যবসাসূত্রে ২৫ কোটি টাকা নেয় মোরশেদ। ২০১৮ সালের লভ্যাংশসহ তাদের পরিশোধ করা হয় ৩৮ কোটি টাকা। এরপর থেকে আরও টাকা দাবি করতে থাকে তারা। এজন্য আমার স্বামীকে তারা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে চাপ এবং হুমকি–ধমকি দিতে থাকে। ২০১৮ সালের মে মাসে আমার স্বামীকে পাঁচলাইশের এম এম টাওয়ারে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আরও ১২ কোটি টাকা বাড়তি তারা পায় উল্লেখ করে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে সই নেয়। স্বামী, আমার ও আমার মেয়ের পাসপোর্ট নিয়ে নেওয়া হয়। আজ পর্যন্ত তা ফেরত পাইনি। ২০১৯ সালে তাদের হিলভিউর বাসায় হামলা করা হয়।
মৃত্যুর আগের দিন আমার স্বামীকে ফোন করেন যুবলীগ নেতা শহীদুল হক রাসেল। আমার স্বামীকে হয়রানি, মানসিক নির্যাতন ছাড়াও বাসায় হামলা, কন্যাকে অপহরণ এবং স্বামীকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয় অনেকবার। তাদের নির্যাতনের কারণেই মূলত আমার স্বামী আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেয়।’
প্রসঙ্গত, গত ৭ এপ্রিল ভোরে নগরের মিমি সুপার মার্কেট সংলগ্ন হিলভিউ আবাসিক এলাকায় নাহার ভবনের ৬ তলায় আত্মহত্যা করেন আল-আরাফাহ ব্যাংক, আগ্রাবাদ শাখার ম্যানেজার আব্দুল মোরশেদ চৌধুরী। আবদুল মোরশেদ চৌধুরী নগরের পুর্ব মাদারবাড়ির বাসিন্দা আব্দুল মৌমিন চৌধুরীর ছেলে।
একুশে/এমআর/এটি