মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

আনোয়ারায় নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই গ্যাস লাইনের খোঁড়াখুঁড়ি, ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

ইউনাইটেড পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজে অনিয়মের অভিযোগ, গর্তে পড়ে আহত পথচারী
জিন্নাত আয়ুব | প্রকাশিতঃ ২০ জানুয়ারী ২০২৬ | ২:০২ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ইউনাইটেড পাওয়ার প্ল্যান্টের গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের কাজে অনিয়ম ও নিরাপত্তা ঝুঁকির অভিযোগ উঠেছে। কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী বা সতর্কবার্তা ছাড়াই জনবহুল এলাকায় বড় বড় গর্ত করে রাখায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। অরক্ষিত এসব গর্তে পড়ে ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে উপজেলার বৈরাগ ও কাফকো সেন্টার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষিজমি, রাস্তার পাশ এবং মার্কেটের সামনে দিয়ে পাইপলাইন বসাতে মাটি খোঁড়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে ফেন্সিং, লাল ফিতা বা কোনো ধরনের সতর্ক সংকেত ব্যবহার করা হয়নি। বিশেষ করে রাতে এসব অরক্ষিত গর্ত মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষ জননিরাপত্তার তোয়াক্কা না করেই দ্রুত কাজ শেষ করার প্রতিযোগিতায় মেতেছে।

কাফকো সেন্টারের ‘ইত্যাদি শপিং কমপ্লেক্সের’ দোকানি নাজিম উদ্দীন জানান, মার্কেটের সামনে গভীর গর্তের চারপাশে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় গত রোববার এক নারী অসাবধানতাবশত গর্তে পড়ে যান। এতে তার হাত-পা মারাত্মক জখম হয়। এভাবে গর্ত খোলা রাখায় শিশু ও গবাদিপশুর পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

কোরিয়ান ইপিজেডের (কেইপিজেড) শ্রমিকবাহী বাসের চালক আব্দুর শুক্কুর বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা রাস্তার পাশে কাজ চললেও কোনো ‘বিপজ্জনক’ সাইনবোর্ড বা রিফ্লেক্টিভ টেপ ব্যবহার করা হয়নি। সোমবার সন্ধ্যায় শ্রমিকদের নিয়ে ফেরার পথে বাস ঘোরানোর সময় অল্পের জন্য গাড়িসহ গর্তে পড়া থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা হারুন উর রশীদ অভিযোগ করেন, পাইপলাইন স্থাপনের জন্য যত্রতত্র মাটি স্তূপ করে রাখায় এই শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে এলাকা একাকার হয়ে গেছে। এতে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে রাস্তাঘাট। এছাড়া শ্রমিকরা হেলমেট বা বুট ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছেন, যা শ্রম আইনের লঙ্ঘন।

শিল্পায়নের প্রয়োজনে বিদ্যুৎ প্রকল্প হলেও সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এমন উন্নয়ন চান না স্থানীয়রা। তারা দ্রুত জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে ইউনাইটেড পাওয়ার প্ল্যান্টের জিএম জিন্নাহ বলেন, নিরাপত্তা বজায় রেখেই কাজ করার কথা। গর্ত খুঁড়ে এভাবে ফেলে রাখার কথা নয়। অনিয়মের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে গর্তের ছবি দেওয়ার কথা বললে তিনি বলেন, “আচ্ছা, তাহলে আমি এখন খবর নিচ্ছি।”

কাফকো সেন্টারের মতো জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ চলার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তারকে অবগত করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।