সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচনের মাঠে ১ লাখ সেনাসহ ৯ লাখ সদস্য, পাহারায় থাকবে ৪০০ ড্রোন

ভোটকেন্দ্র পাহারায় ২৫ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ‘সুরক্ষা অ্যাপ’
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ৬:২৮ অপরাহ্ন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে শুধু সেনাবাহিনীর সদস্যই থাকবেন ১ লাখ। এছাড়া আকাশপথে নজরদারির জন্য প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হবে ৪১৮টি ড্রোন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা শেষে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে দুই পর্বে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে যারা ইতিমধ্যে মাঠে আছেন তারা বলবৎ থাকবেন। দ্বিতীয় পর্বে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭ দিন ভোটকেন্দ্রিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন সদস্যরা। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

ব্রিফিংয়ে দেওয়া তথ্যমতে, মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্যের মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ, নৌ-বাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ (স্থলভাগে ১ হাজার ২৫০), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, র্যাবের ৭ হাজার ৭০০ এবং কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্য থাকবেন। মূল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন সদস্য মাঠে থাকবেন। এছাড়া সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, এবারের নির্বাচনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার। আকাশপথে নজরদারির জন্য বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে মোট ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ২০০টি, বিজিবির ১০০টি, পুলিশের ৫০টি, কোস্ট গার্ডের ২০টি, র্যাবের ১৬টি, আনসার ও ভিডিপির ১৬টি এবং নৌ-বাহিনীর ১৬টি ড্রোন থাকবে।

এছাড়া পুলিশের গায়ে থাকবে ২৫ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা, যা অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যবহৃত হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তুতিও চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনটিএমসি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ ব্যবহার করা হবে, যা তাৎক্ষণিক অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকারে ভূমিকা রাখবে। জরুরি সেবা ৯৯৯-এ বিশেষ টিম গঠন করে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

আসন্ন নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে ৮ হাজার ৭৮০টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ১৬ হাজার ৫৪৮টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ১৭ হাজার ৪৩৩টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র।

উপদেষ্টা জানান, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র্যাবের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে।

নির্বাচন সামনে রেখে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযানের অগ্রগতিও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অভিযানে মোট ৫৩ হাজার ৩৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ওয়ারেন্টভুক্ত ও মামলার আসামি ৩৩ হাজার ৫১৩ জন।

অভিযানে এ পর্যন্ত ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ১৯১ রাউন্ড গুলি, ৭২২ রাউন্ড কার্তুজ, ৬৯৪টি দেশীয় অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত বা প্রভাবিত করতে পারে এমন যেকোনো অপতৎপরতা সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে। নির্বাচন পূর্ববর্তী চার দিন নিবিড় টহল পরিচালনার জন্যও বাহিনীগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।