
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার অভিজিৎ ঘোষকে রোববার কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
এর আগে শনিবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ফিরিঙ্গিবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার যুবক অভিজিৎ ঘোষ বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডী এলাকার আশীষ কুমার ঘোষের ছেলে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে অভিজিৎ। এসময় সে নিজেকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগ হতে অনার্স সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী এবং পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। এসময় ল প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন অভিজিৎ।
ডাল হিসেবে ৫০ টাকা মূল্যমানের নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ও ভুয়া বিবাহের হলফনামা তৈরি করেন অভিজিৎ। একপর্যায়ে প্রতারণার বিষয়টি ছাত্রীর পরিবার জানলে তাকে বাসায় আসতে বললে নানাভাবে প্রতারণার আশ্রয় নেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিএমএম কোর্ট মর্মে সত্যায়নে যে নাম ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে প্রকৃতপক্ষে ওই নামের কোনো সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিএমএম কোর্টে কর্মরত নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তৌফিকুল ইসলাম নামের একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্মরত আছেন কুমিল্লা আদালতে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে ২০১৭ সালের দিকে কিছুদিন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন তৌফিকুল ইসলাম। গ্রেফতার হওয়া অভিজিৎ ঘোষ ওই সময় থেকে তৌফিকুল ইসলামকে চিনতেন। সেই সুবাদে বর্তমানে কুমিল্লা আদালতে কর্মরত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিকুল ইসলামের সিল-স্বাক্ষর জাল করে প্রতারক অভিজিৎ এ সংক্রান্ত নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তার নাম ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি একুশে পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিকুল ইসলাম।
এদিকে, কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন বলেন, অভিজিৎ একজন প্রতারক। নিজেকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রতারণা করে আসছে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে কয়েকমাস আগে ফিরিঙ্গি বাজারে তার এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন অভিজিৎ।
ভিকটিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী। অভিজিৎ ঘোষ (২২) এর সাথে তার ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে ফেসবুকে মেসেঞ্জারে মেসেজ আদান প্রদানের মাধ্যমে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়।
গত ২৪ এপ্রিল ভিকটিম কোতোয়ালী থানায় হাজির হয়ে আসামীর বিরুদ্ধে নারী শিশু আইনের ৯ (১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর শনিবার সন্ধ্যায় ফিরিঙ্গীবাজার থেকে অভিজিৎ ঘোষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে অভিজিৎ বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে প্রতারণাপূর্বক ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।