বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

সিনহাকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ওসি প্রদীপ, আদালতকে বোন

| প্রকাশিতঃ ২৩ অগাস্ট ২০২১ | ৭:০১ অপরাহ্ন


কক্সবাজার প্রতিনিধি : টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের নির্দেশে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে পরিদর্শক লিয়াকত আলী গুলি করে হত্যা করেছে জানিয়ে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

আজ সোমবার কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আলোচিত এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। টানা তিনদিন এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। এই তিনদিনে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আদালতে এ মামলার ৮৩ সাক্ষীর মধ্যে বাদীসহ ১৫ সাক্ষীর প্রতি সমন জারি করা হয়েছে।

কক্সবাজার আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, আজ প্রথমদিন মামলার বাদী সিনহার বোন শারমিন শাররিয়া ফেরদৌসের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয়েছে। কাল মঙ্গলবার একই সময় আবার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ২৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এসময় ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।

জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে সোমবার সকাল সোয়া ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা।

সাক্ষ্য প্রদানের সময় বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ এ মামলার ১৫ জন আসামি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বাদী ও প্রধান সাক্ষী সিনহার বোন শারমিন ফেরদৌস বলেন, প্রদীপ কুমার দাশের নির্দেশে ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী গুলি করে সিনহাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ জেনে আমি মামলা দায়ের করেছি। এবং আদালতেও একই তথ্য তুলে ধরেছি আমি।

সিনহা হত্যার বিচারের রায়ের দিকে সারা বাংলার মানুষ চেয়ে আছে উল্লেখ করে ওসি প্রদীপ-লিয়াকতসহ জড়িতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন শারমিন ফেরদৌস।

কক্সবাজার আদালত চত্বরে ওসি প্রদীপের আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত বলেন, আজকে সাক্ষীদেরকে অন্য আসামির আইনজীবীরা জেরা করেছেন। কালকে প্রদীপ ও লিয়াকতের পক্ষ থেকে সাক্ষীদের জেরা করা হবে। আশা করি কালকেই জেরা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, গত ২৭ জুন এ মামলার চার্জগঠন করা হয়েছে। চার্জগঠন ও আদেশ জারির পরদিনই মামলার কাগজপত্রের নকলের জন্য আবেদন করেছিলাম। আমরা এখনো সে নকল পাইনি। বিষয়টি আদালতকে অবগত করার পর আদালত মঙ্গলবার সাক্ষীদের জেরা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ মামলার ১৫ জন আসামিকে কড়া পুলিশ পাহারায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিকেল পাঁচটার দিকে একইভাবে তাদের কক্সবাজার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে সোমবার বেলা ১১টার দিকে সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে আদালত চত্বরে সিনহা হত্যা মামলার শীর্ষ দুই আসামি দীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। ‘অসহায় নির্যাতিত সমাজ ও লাভ বাংলাদেশের’ ব্যানারে এ মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে বিভিন্ন সময় বন্দুকযুদ্ধে নিহতের স্বজনেরা ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের জেলা সভাপতি নাজনীন সরওয়ার কাবেরী ও আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের সমন্বয়ক মহসীন শেখ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টের গাড়ি তল্লাশি কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম।