
ঢাকা : পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একসঙ্গে দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালতের রায় হয়েছে। এই মামলা হাইকোর্টের রায়ের পর এখন আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলাটি এখনও বিচারিক আদালতের গণ্ডিই পেরোয়নি।।
ইতোমধ্যে মধ্যে কেটে গেল ১৪ বছর। হত্যা ও বিদ্রোহ মামলায় খালাস মিললেও কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না দুই শতাধিক আসামি। এই মামলায় আপিল শুনানির জন্য আবার বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দ্রুত চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, দুটি মামলার মধ্যে একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অথচ অন্য কেসটি এখনও ট্রায়াল পর্যায়ে। খুব সহজেই বোঝা যায় রাষ্ট্রপক্ষের সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে। আমরা উভয় মামলা খুব দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অনেকবার চেষ্টা করেছি, করে যাচ্ছি। অনুরোধ করব, রাষ্ট্রপক্ষ যেন দুটি মামলাই দ্রুত নিষ্পত্তি করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলছেন, এ বছর আপিল শুনানি শুরু করবে রাষ্ট্রপক্ষ। তার আশা, চলতি বছরই মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।
আমিন উদ্দিন বলেন, আমরা ৩৩টি আবেদন ফাইল করেছি। আবেদন অনুযায়ী কোর্টে আসবে, তাদের সময় দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না হলে আপিলটি বাতিল হয়ে যাবে। এই প্রক্রিয়াগুলো শেষ করে আশা করি এ বছরই মামলাটি শুনানি করতে পারব।
পিলখানার ভয়াবহ ওই এই ঘটনায় ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক নবজ্যোতি খিসা। ২০১০ সালের ১২ জুলাই পিলখানা হত্যা মামলায় ৮২৪ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে সম্পূরক চার্জশিটে আরও ২৬ জনকে আসামি করা হয়।
২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর লালবাগে অবস্থিত আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে এই হত্যা মামলার রায় দেন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে ৮৫০ জন আসামির মধ্যে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৭১ জনকে খালাস দেওয়া হয়। দুই থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় ২৬৬ জনকে।
২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখা হয়। আটজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চারজনকে খালাস দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়। হাইকোর্টে আপিল চলার সময়ে কারাগারে থাকা অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। খালাস পান ১২ আসামি।
এ ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলাটির আসামি ৮৩৪ জন। এর মধ্যে ২৪ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। পলাতক রয়েছেন ২০ জন।