
ঢাকা : মাত্র ৪২ ঘণ্টায় হত্যা মামলার চার্জশিট দিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন মানিকগঞ্জ সদরের এক পুলিশ কর্মকর্তা।
এ অবিশ্বাস্য ঘটনায় মানিকগঞ্জ সদরের কৈতরা গ্রামের মো. রুবেল (২২) হত্যার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানাকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘আদালতের কাছে বেশি স্মার্টনেস দেখাবেন না। একদম কারাগারে পাঠিয়ে দেব।’
সোমবার বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।
গত ১ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘লাশ উদ্ধার থেকে অভিযোগপত্র, ৪২ ঘণ্টার অবিশ্বাস্য তদন্ত’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।
এরপর ১৪ মার্চ এন বিষয়ে রুল জারি করেন বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মানিকগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক মো. মাসুদ রানাকে কেস ডকেটসহ ৩ এপ্রিল আদালতে হাজির হতে বলা হয়।
সোমবার শুনানির শুরুতে আদালত পুলিশ কর্মকর্তাকে বলেন, আপনি মাত্র ৪২ ঘণ্টায় হত্যা মামলা তদন্ত শেষ করলেন? এ সময়ের মধ্যে কখন সাক্ষী নিলেন, কখন ঘুমালেন, কখন খাওয়া দাওয়া করলেন তা আমাদের দেখান।’
ওই উপ-পরিদর্শক কতটি মামলা তদন্ত করেছেন, সেগুলো কত সময়ে শেষ করেছেন তার তালিকাও দেখতে চান আদালত।
এ সময় পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদ রানা আদালতকে বলেন, ‘এটা আমার প্রথম তদন্ত।’
আদালত মাসুদ রানার দাখিল করা নথিতে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার একটি তদন্ত প্রতিবেদন রেফারেন্স হিসেবে সংযুক্ত করা দেখতে পেয়ে ভর্ৎসনা করেন। আদালত বলেন, কেন আপনি এটা দিলেন। আপনার কাছে তো রেফারেন্স চাওয়া হয়নি। বেশি স্মার্টনেস দেখাচ্ছেন। নিজেকে বেশি স্মার্ট মনে করেন? কোর্টের সঙ্গে বেশি স্মার্টনেস দেখাবেন না। একেবারে কারাগারে পাঠিয়ে দেব।’
এর পর দুপুর ২টা এই মামলার শুনানি মুলতবি করা হয়।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে মানিকগঞ্জ সদরের কৈতরা গ্রামের একটি হ্যাচারিতে মো. রুবেল (২২) খুন হন। এ ঘটনায় পরের দিন নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সোহেল নামে একজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এর পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন।
জানা যায়, রুবেল হত্যার ঘটনায় রাত দেড়টায় মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল রিপোর্টে তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর মামলা রেকর্ড থেকে শুরু করে সাক্ষ্য গ্রহণসহ একে একে অন্তত ৯টি ধাপ পার করে মাত্র ২২ ঘণ্টায় তদন্ত কার্যক্রম শেষ এবং পরবর্তী ২০ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে হাজির, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণসহ তদন্তের সব প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
মাত্র ৪২ ঘণ্টায় হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।