
ঢাকা : বিএনপিনেত্রী খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি এবং বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে যে আবেদন করা হয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। ফলে আপাতত দেশের বাইরে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন না সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি পেতে হলে নির্বাহী ক্ষমতায় শর্তসাপেক্ষে মুক্তির যে আদেশ খালেদা জিয়া পেয়েছেন, সেটি প্রত্যাহার করে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে এবং ফিরে যেতে হবে কারাগারে। এরপর আদালতে আবেদন করতে হবে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতির জন্য। এক্ষেত্রে আদালত যদি মনে করেন, অনুমতি দেওয়া যায়, তবে তিনি অনুমতি পেতে পারেন। আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয় নাকচ করে দেওয়ার পর বিএনপিনেত্রীর আইনজীবীরা অভিযোগ তুলেছেন- আইনগতভাবে নয়, রাজনৈতিকভাবে তার আবেদনটি বিবেচনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদন পেয়েছি। আইন মন্ত্রণালয়ে এটি বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এ মতামত দিয়ে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। কারণ কিছুদিন আগে ছয় মাসের সাজা স্থগিত করার জন্য তার পরিবারের আবেদন সরকার গ্রহণ করেছে। একই বিষয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যে আবেদন এসেছে তাতে স্থায়ী জামিন ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এর আগে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী দুটি শর্তে তাকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। কাজেই আমরা নতুন করে আরেকটি আবেদন গ্রহণ করতে পারি না। আমাদের এ সুযোগ নেই।
আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরও জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ (১)-এর ধারার ক্ষমতাবলে তার (খালেদা জিয়া) সাজা স্থগিত রেখে শর্তযুক্ত মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশে যেতে পারবেন না। প্রথমে তাকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়। পরে তা আরও আটবার বাড়ানো হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, এখন আইনের যদি কোনো পরিবর্তন আনতে হয় তাহলে খালেদা জিয়াকে দেওয়া শর্তযুক্ত মুক্তি আগে বাতিল করতে হবে। বাতিল করে আগের অবস্থায় ফেরার পর অন্য বিবেচনা করা যাবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, আইনের ৪০১ ধারার কোনো দরখাস্ত যদি একবার নিষ্পত্তি করা হয়, সেই নিষ্পত্তি করা দরখাস্ত পুনর্বিবেচনা করার কোনো অবকাশ আর আইনে থাকে না। ঠিক সেই ফৌজদারি কার্যবিধি ৪০১ ধারার উপধারা ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ব্যাখ্যা করে আমরা আমাদের মতামত পাঠিয়ে দিয়েছি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। সেখানে আমরা মতামত দিয়েছি, ৪০১ ধারার ক্ষমতাবলে যে দরখাস্ত নিষ্পত্তি করা হয়েছে সেটা পাস্ট অ্যান্ড ক্লোজ ট্রানজেকশন, এটা খোলার আর কোনো উপায় নেই।
আইনমন্ত্রী জানান, ৪০১ ধারার কোনও আদেশ আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ নেই। ৪০১ ধারায় কোনও কিছু নিষ্পত্তি হলে তা আবার নিষ্পত্তির সুযোগ নেই। যদি তিনি আবার জেলে যান এবং আদালত যদি আবার অনুমতি দেয় তখন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা ৪০১ ধারায় দেওয়া সুবিধা বাতিল করব না। বাতিল করা অমানবিক। এই উপমহাদেশে ৪০১ ধারা আদালতে চ্যালেঞ্জ করার কোনো নজির নেই।
খালেদা জিয়ার পরিবার যদি এরপরও তাকে বিদেশ পাঠাতে চায় তাহলে কী প্রক্রিয়ায় যেতে হবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাকে এখন যে আদেশ বলে ৪০১ ধারায় দুটি শর্তে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত রেখে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, সেটা বাতিল করে পুনরায় বিবেচনা করার সুযোগ থাকলে সেটা করা হবে।
তাহলে আবার আদালতে যেতে হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতে যাওয়ার বিষয়টি সবসময়ই আছে। আরও স্পষ্ট করে বলছি, আমাদের এই উপমহাদেশে ৪০১ ধারার ক্ষমতা যখন সরকার প্রয়োগ করে তখন সেটাকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না বলে সিদ্ধান্ত আছে। সেক্ষেত্রে এখন যে আদেশ আছে সেটা যদি বাতিল করা হয়, বাতিল করে তাকে যদি আবার কারাগারে নেওয়া হয় তাহলে তিনি আদালতে যেতে পারবেন। এ অবস্থায় তার আদালতে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তাহলে কি আদেশ বাতিল করা হবে? জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, বাতিল করা অমানবিক হবে। বাতিল করব না।
আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিকও৷ তিনি মনে করেন, খালেদা জিয়া এখন যে অবস্থায় কারগারের বাইরে আছেন সেই অবস্থায়ই তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে অনুমতি দেয়ার সুযোগ আইনে আছে৷ তবে নির্বাহী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিষয়টি ‘প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাধীন’ বলে মনে করেন তিনি৷
খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে ছয় মাসের জন্য নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেয়া হয়৷ এরপর ছয় মাস তা বাড়ানো হয়েছে৷ বিষয়টি উল্লেখ করে শাহদীন মালিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আইনমন্ত্রী যে বলছেন যে ওই আবেদন নিস্পত্তি হয়ে গেছে আইনে আর কিছু করার নেই। তাহলে আমার প্রশ্ন তার মুক্তির মেয়াদ আরো আট বার বাড়ানো হলো কোন আইনে? যদি ওটা ক্লোজ হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে তো তার মুক্তির মেয়াদ ছয় মাসেই শেষ হওয়ার কথা ছিলো৷”
আইনমন্ত্রী ৪০১ ধারা যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন এই আইন বিশেষজ্ঞ৷ বলেন, “প্রকৃত পক্ষে ৪০১ ধারার বলা আছে, সরকার শর্ত সাপেক্ষে বা শর্তহীন ভাবে কারো দণ্ড মওকুফ বা স্থগিত করতে পারে৷ খালেদা জিয়ার দণ্ড শর্ত সাপেক্ষে স্থগিত করে মুক্তি দেয়া হয়েছে৷ শর্ত হলো তিনি ঢাকায় চিকিৎসা করাবেন এবং দেশের বাইরে যেতে পারবেন৷ এখন তাকে শর্তহীনভাবে মুক্তি দেয়া যায়৷ অথবা বলে দেয়া যায় তিনি যেখানে প্রয়োজন চিকিৎসা করাতে পারবেন৷ এরজন্য তাকে তো আবার কারাগারে গিয়ে আগের আদেশ বাতিল করে আবেদন করার দরকার নাই৷ তাই যদি করতে হয় তাহলে সরকার কীভাবে তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ এতবার বাড়ালো? আর হ্যাঁ সেখানেও একটা শর্ত দেয়া যেতে পারে যে তিনি বিদেশে চিকিৎসা শেষে এক মাসের মধ্যে দেশে ফিরে আসবেন৷”
শাহদীন মালিক অবশ্য বলেন এটি করার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই৷ ‘‘নির্বাহী সিদ্ধান্ত হওয়ায় তা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাধীন৷ ম্যান্ডেটরি নয়৷ তা না হলে সব আসামি বলবে আমাকে ছেড়ে দাও। কিন্তু খালেদা জিয়া বৃদ্ধ বয়সে অনেক জটিল রোগে আক্রান্ত। তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ না যেতে দিয়ে সরকার তার জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে,” অভিমত এই আইনজীবীর।
খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে করা আবেদনে আইন মন্ত্রণালয়ের নেতিবাচক মত প্রদান এবং এর পর এ নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পর গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আবার প্রমাণিত হয়েছে, দেশে আইনের শাসন নেই। আবেদনটি আইনগতভাবে নয়, রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে খালেদা জিয়ার প্রতি এক ভয়ংকর তামাশা করা হয়েছে।
বিএনপির শীর্ষনেত্রীর প্রধান আইনজীবী এবং দলটির আইনবিষয়ক এই সম্পাদক আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, সরকার চাইলেই নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে পারতেন এবং বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ করে দিতে পারতেন।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনে রাজবন্দিদের মুক্তি দিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করানোর দৃষ্টান্ত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার আবেদনের বিষয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী পাবলিক স্টেটমেন্ট দিয়ে বলেছিলেনÑ খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে যদি আবেদন করা হয়, সেটি সুবিবেচনা করা হবে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার গত ২৫ সেপ্টেম্বর আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদনটি আইনগতভাবে বিবেচনা না করে, রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফলাফল আজকে আমরা এই সিদ্ধান্তের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।
খালেদা জিয়ার আবেদনের বিষয়ে বার কাউন্সিলের কমপ্লেইন্ট অ্যান্ড ভিজিলেন্স কমিটির চেয়ারম্যান ও সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, উনি একজন নাগরিক, পলিটিক্যাল পারসন, তিনি সাজাপ্রাপ্ত। দুটি কোর্ট সাজা বহাল রাখার পর সেটি এখন আপিল বিভাগে পেন্ডিং। সেখানে উনি জামিন চাইলেন, জামিন দেওয়া হলো না। তারপর সরকার নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে ওনার সাজা স্থগিত করল; সাধারণ মানুষের মতো তাকে মুক্তি দেওয়া হলো। একটা নির্বাহী আদেশ যেহেতু আছে, সেখানে আরেকটি নির্বাহী আদেশ দিয়ে উনাকে তো বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো যায় না। এখন উনার যদি নতুন কোনো আবেদন থাকে, সেক্ষেত্রে নির্বাহী আদেশটি প্রত্যাহার করার কথা বলবেন; এরপর উনি কাস্টডিতে যাবেন, পরে আইনগতভাবে যা হওয়ার হবে।
তবে আদালতের ক্ষমতা অপরিসীম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদালত অনেক কিছুই করতে পারেন। আবার উনি নির্বাহী আদেশ যদি আর এক্সটেনশন না করেন, কোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে পারেন। এর পর উচ্চতর চিকিৎসার জন্য বিশেষ কোনো চিকিৎসকের কাছে বিদেশে যেতে চান বলে আদালতে আবেদন করলে আদালত অনুমতি দিতে পারেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে দেখা করেন এবং বিএনপি নেত্রীর বিদেশে উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে আবেদন করেন। আবেদনটিতে মতামত প্রদানের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।
প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৫৩ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সর্বশেষ ৫ আগস্ট গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের অধীনে বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা চলছে। এ মেডিক্যাল বোর্ডে ১৯ জন চিকিৎসক রয়েছেন। খালেদা জিয়াকে এরই মধ্যে তিন দফায় কেবিন থেকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।
৭৮ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে লিভার, ফুসফুস ও কিডনি সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তিনি আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। নেত্রীর পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটজনক।
খালেদার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড গত দুই সপ্তাহের মধ্যে আবারও দ্রুত তার লিভার প্রতিস্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে বলে সুপারিশ করেছে। সে জন্য তাকে বিদেশে ‘মাল্টিডিসিপ্ল্যানারি’ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। অন্যথায় তার জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বোর্ড।
এমন প্রেক্ষাপটে ২৫ সেপ্টেম্বর শামীম এস্কান্দার খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। আবেদনটি মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। গতকাল সেটি নাকচ করে দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়৷ ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তাকে নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয়া হয়। এরপর থেকে তার মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে বাড়িয়ে কারাগারের বাইরে নিজ বাসায় রাখা হচ্ছে তাকে। এ পর্যন্ত মোট আটবার তার শর্তসাপেক্ষ মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।