বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

পাহাড়ি-বাঙালির স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো নির্মাণ

| প্রকাশিতঃ ৫ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

শংকর চৌধুরী, খাগড়াছড়ি : পাঁচ গ্রামের স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ প্রায় ৮ হাজার মানুষের পারাপারে ঝুঁকিপূর্ণ ঝুলন্ত সেতুর বদলে পাহাড়ি-বাঙালিরা স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করলেন কাঠের সাঁকো।

কোনো রকম পারিশ্রমিক ছাড়াই এলাকাবাসী নিজেদের স্বেচ্ছাশ্রমে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার পৌর সদর এলাকার ৭ নং ধলিয়া খালের উপর চলাচলের জন্য ৫ গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘ্য ৬০ ফুট সাঁকোটি নির্মাণ করে।

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি সদর থেকে ১৯ কিলেমিটার দূরে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার সদর হাসপাতাল সংলগ্ন ধলিয়া খালে সাঁকো তৈরির কাজ করছে গ্রামবাসী। পাহাড়ি ও বাঙালি অধ্যুষিত প্রায় ৫ গ্রামের মানুষ সাঁকো নির্মাণের কাজে হাত দেয়। কেউ কাটছে মাটি, কেউ বস্তায় করে খালে ফেলছে মাটি, আবার কেউ কেউ সাঁকোর জন্যে জোগাড় করছে কাঁঠ।
গ্রামবাসীরা জানান ,ধলিয়া খাল পারাপারে সেতু না থাকায় গ্রামবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। বিশেষ করে বর্ষাকালে বাজার, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় সাঁতার কেটে খাল পারাপার করতে হয়। এছাড়া খাল পারাপার হতে প্রায় সময় ঘটে দুর্ঘটনা।

গ্রামের বাসিন্দা হরি কিশোর ত্রিপুরা বলেন, নিজেদের প্রয়োজনে স্বেচ্ছাশ্রম সাঁকো নির্মাণ করছি। শীতকালে খালের পানি কমে যাওয়ায় সাঁকো বানাচ্ছি। সাঁকোটি ৪-৫ মাস স্থায়ী হয়। এরপর আবার দুর্ভোগ শুরু। চলাচলের জন্য ঝুলন্ত সেতু থাকলেও তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। সেতু থেকে পড়ে দুর্ঘটনাও ঘটছে। তাছাড়া খালের পাড়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতে হয় কাঁধে করে।অনেক সময় উৎপাদিত পণ্য নষ্ট হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো.বেলাল মিয়া বলেন, ‘পৌরসভার বাসিন্দা হয়েও সেতু না থাকা দুঃখজনক। বর্ষাকালে খালে পানি থাকাবস্থায় সাঁতার কেটে খাল পার হই। সেতু না থাকায় হাসপাতাল, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগে ব্যাঘাত ঘটে। বর্ষায় ১০ মিনিটের পথ চার কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। প্রতি বছরই সাঁকো বানাই, আবার বৃষ্টি বাড়লে খালের পানি তোড়ে তা আবার ভেসে যায়।’

বড়ঝালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফজা বেগম বলেন, বর্ষাকালে বেশিরভাগ সময় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। মানুষের কষ্ট লাঘবে সাঁকো বানালেও তা অস্থায়ী। বর্ষায় সাঁকো থাকে না। তখন আবার কষ্ট শুরু হয়। বড়ঝালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পারমিতা চাকমা ও মোঃ রবিউল বলেন, ঝুলন্ত সেতু পার হতে আমাদের ভয় লাগে। সাঁকোটি বানানোয় আমাদের চলাচলের সুবিধা হবে। তবে স্থায়ী সেতু বানালে আমাদের কষ্ট কমবে।

৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো.আবুল হাসেম ভুঁইয়া বলেন, কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে সেতুটি নির্মাণের জন্য আবেদন নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেছি। পৌর এলাকার মোহাম্মদপুর, আটবাড়ি, বড়ঝালা, কাঠালবাড়িসহ প্রায় ৫ গ্রামের মানুষ বর্ষায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। দুই বছর আগে নিজের অর্থায়নে কাঠের একটি ঝুলন্ত সেতু বানিয়েছি, তা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুলন্ত সেতু থেকে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে অনেকবার। বিকল্প না থাকায় এই পথে চলাচল করতে হয়।

মাটিরাঙা উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ারুল হক জানান, সেতুটি নির্মাণের জন্য ব্রীজ এলাকার সয়েল টেষ্ট সম্পন্ন হয়েছে। ২৫০ ফুট দীর্ঘ সেতুর ডিজাইনের কাজও শেষ হয়েছে। ডিসেম্বর নাগাদ রবাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। বরাদ্দ ফেলে ব্রীজের কাজ শুরু হবে।