
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পারকি সমুদ্র সৈকতে অবস্থিত ‘লুসাই পার্ক রেস্তোরাঁ’র বিরুদ্ধে পঁচা ও বাসি খাবার পরিবেশনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের এই পর্যটন এলাকায় ঘুরতে আসা সাধারণ পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় সাংবাদিকরাও রেস্তোরাঁটির বিরুদ্ধে খাবারের মান নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে লুসাই পার্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশন করা হলে বিষয়টি সামনে আসে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় সাংবাদিক নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “লুসাই রেস্তোরাঁ আমাদের টেবিলে ফ্রিজে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা পঁচা খাবার পরিবেশন করেছে। খাবার প্লেটে নেওয়ার পরই আমরা সন্দেহ করি এবং পরে ব্যবস্থাপক মনির বিষয়টি স্বীকার করে আমাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।” একই অভিযোগ করেন আরেক সাংবাদিক ইমরান হোসেনও।

এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। সপ্তাহখানেক আগে পরিবার নিয়ে পারকিতে ঘুরতে আসা ফখরুল ইসলাম নামে এক পর্যটকও একই ধরনের প্রতারণার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “লুসাই পার্ক রেস্তোরাঁ আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সাথে নিয়মিত প্রতারণা করছে। গত সপ্তাহে আমরা তিনজনের জন্য সোনালি মুরগি আর ডিম তরকারি দিয়ে ভাত অর্ডার করি। খাবারগুলো কতদিন ফ্রিজে ছিল তা জানি না, কিন্তু সেগুলো খেয়ে আমার পরিবারের সবাই ফুড পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হয়ে তিনদিন অসুস্থ ছিল।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসনের উচিত পারকির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যটন এলাকার রেস্তোরাঁগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা।”

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আকবর প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ব্যবস্থাপক মনির ফ্রিজে দীর্ঘদিন খাবার সংরক্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, যা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, “পঁচা ও বাসি খাবার পরিবেশন করা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এটি একটি গুরুতর অপরাধ। অভিযোগ পেলে আমরা কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
পঁচা খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “পঁচা বাসি খাবারে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা টক্সিন খাদ্য বিষক্রিয়ার (ফুড পয়জনিং) প্রধান কারণ। এর ফলে পেটে ব্যথা, বমি, ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের হজমের সমস্যা দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি পানিশূন্যতা, কিডনি রোগ এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।”
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আকতার বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আমরা অভিযোগ খতিয়ে দেখব এবং সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পর্যটন এলাকার সুনাম রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”