বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

ধারণক্ষমতার তিনগুণ বন্দী চট্টগ্রাম কারাগারে, নতুন কারাগারের জমিও মেলেনি ৫ বছরে

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২ জুলাই ২০২৫ | ১০:০৮ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ধারণক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি বন্দী থাকায় সেখানে অমানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু এই সংকট নিরসনে একটি নতুন কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ গত পাঁচ বছরেও জমি অধিগ্রহণের অভাবে আটকে আছে।

কারা সূত্র জানায়, ১ হাজার ৮৫৩ জন বন্দী ধারণক্ষমতার এই কারাগারে বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার বন্দী থাকছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, যিনি রাজনৈতিক মামলায় কারাভোগ করেছেন, তিনি বলেন, “কারাগারে বন্দীদের অতিরিক্ত চাপ। আমি দেখেছি, ৩০-৪০ জনের জায়গায় ১০০ জন রাখা হয়। এটা অমানবিক। বন্দীদের পর্যাপ্ত জায়গা ও শৌচাগার না থাকায় তারা নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হন। ন্যূনতম মৌলিক অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে চট্টগ্রামে নতুন কারাগার নির্মাণ জরুরি।”

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারা অধিদপ্তর ২০১৯ সাল থেকে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে একটি নতুন কারাগার নির্মাণের জন্য ৭৫ একর জমি চেয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছে। কিন্তু পাঁচ বছর পার হলেও সেই জমি এখনও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের রাজস্ব ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার আলাউদ্দিন বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরে প্রস্তাবিত সরকারি জমি দখল করে বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। উচ্ছেদে গেলে আমাদের ফিরে আসতে হয়।”

জমি পেতে ব্যর্থ হয়ে চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষ এখন নতুন করে জমি খুঁজছে। গত ২৫ মার্চ জেলার আনোয়ারা উপজেলায় একটি সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন।

তিনি বলেন, “জঙ্গল সলিমপুর হলে ভালো হতো, কিন্তু জেলা প্রশাসন জায়গাটি দিতে পারছে না। তাই আদালত ও হাসপাতালের কাছাকাছি ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে—এমন ৩০ থেকে ৫০ একর জমি খোঁজা হচ্ছে।”

কারা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন বলেন, “বর্তমানে চট্টগ্রাম কারাগারে তিন গুণের বেশি বন্দী রয়েছেন। বারবার অনুরোধ করেও নতুন কারাগারের জন্য জমি পাচ্ছি না। নতুন কারাগার হলে সেটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলা যাবে, যেখানে বন্দীদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।”

অতিরিক্ত বন্দীর চাপের কারণে কারাগারে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। ২০২১ সালে এই কারাগার থেকে একজন হত্যা মামলার আসামি পালিয়ে যাওয়ার পর গঠিত তদন্ত কমিটি জেলা ও মহানগর থানার মামলার বন্দীদের আলাদা রাখার সুপারিশ করলেও, জায়গার অভাবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।