
দুই দফা সংঘর্ষের পরদিন চট্টগ্রামের পটিয়া থানা ঘেরাও করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। তাদের ওপর পুলিশের হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বুধবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে পটিয়া থানার মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। পরে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তারা থানার সামনের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করলে দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে পটিয়া থানা পুলিশের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে উভয় পক্ষের ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পটিয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করে ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা থানা চত্বরে নিয়ে আসেন। কিন্তু তার নামে কোনো মামলা না থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাহেদ মো. নাজমুন নূর মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছিলেন, ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা থানায় এনে ওই ব্যক্তিকে মারধর করছিল এবং নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে থানায় ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়, যাতে তিন-চারজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
অন্যদিকে, ছাত্র আন্দোলনের মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক রিদওয়ান সিদ্দিকী দাবি করেন, প্রথম দফার সংঘর্ষে তাদের ছয়জন এবং রাত সাড়ে ১১টার দিকে দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষে আরও নয়জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
বুধবার সকালে থানা ঘেরাও কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম নগরের মুখপাত্র ফাতেমা খানম বলেন, “সকালে আমরা থানার ফটকের সামনে অবস্থান নিতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে আমাদের একজন আহত হয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা সরব না।”
তবে থানা ঘেরাও এবং মহাসড়ক অবরোধের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পটিয়া থানার ওসির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।