
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো নীতিগতভাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। তবে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের পদ্ধতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এখতিয়ার নিয়ে দলগুলোর মধ্যে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে।
বুধবার (২ জুলাই) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় দফার অষ্টম দিনের আলোচনা শেষে এই তথ্য জানানো হয়।
বৈঠক শেষে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, “দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন এবং সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মতামত এলেও দলগুলো এখন তাদের অবস্থানে আগের চেয়ে অনেক কাছাকাছি। আলোচনা খুবই ইতিবাচক হয়েছে।”
তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীতে থাকা পদ্ধতি অনুসরণ, সংসদের মাধ্যমে নিয়োগ অথবা একটি জাতীয় সাংবিধানিক পরিষদের মাধ্যমে নিয়োগ—এই তিনটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলোর সূত্রে জানা যায়, প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করেছে বিএনপি ও তার শরিক দলগুলো এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে জামায়াতে ইসলামী বিচার বিভাগের ভূমিকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এনসিপি প্রস্তাব করেছে, সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে একটি সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হোক। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রস্তাবে বলেছে, সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকেই প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রথম পছন্দ হিসেবে রাখা উচিত। কোনোভাবেই মতৈক্য না হলে ১৯৯১ সালের মতো সংসদীয় দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্রপতি একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেবেন।
তবে কোনো পরিস্থিতিতেই রাষ্ট্রপতিকে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে এনসিপি ও জামায়াত।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিএনপি অতীতে সৃষ্ট বিতর্ক এড়াতে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কোনো বিচার বিভাগীয় ব্যক্তিত্বকে সমর্থন করে না, বরং রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে একটি নতুন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা চায়।”
তিনি আরও জানান, বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ ৯০ দিন রাখার পক্ষে এবং এর অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিরোধিতা করেছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন জানান, তাদের দল ১১ সদস্যের একটি সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে ৮-৩ ভোটে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হবেন।
জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, তাদের দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার উভয় নির্বাচন চায় এবং এর মেয়াদ চার মাস রাখার পক্ষে।
অধ্যাপক আলী রিয়াজ আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব শিগগিরই এসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতির ভিত্তিতে এ মাসের মধ্যেই ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত করা যাবে।