
ফেসবুক লাইভে এসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর এক ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার দুপুরে শেফায়েতুল ইসলাম ইমরান নামের ওই কর্মীর এই হুমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং পুলিশ তাকে খুঁজছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে ইমরানকে বলতে শোনা যায়, “সময় হলে ধরে কাঁথার ভেতর ঢোকাবো।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তাকে বলতে শোনা যায়, “এই ইউনুইচ্ছা, বাটপারের বাচ্চা বাটপার… সময় আসতেছে। সময় বেশি দূরে নয়।” এ সময় তিনি আরও নানা ধরনের হুমকি ও অশালীন মন্তব্য করেন।
ভিডিওর শেষে তিনি বলেন, “মনে করছিস হারিয়ে গেছি না? বের হবো…। তুমি খেলা শুরু করছো। আমরা শেষ করবো। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী শেফায়েতুল ইসলাম ইমরান উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের মধুখালী এলাকার রেজাউল করিমের ছেলে। তিনি সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
হুমকির ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ইমরানকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিপো কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিপোর একজন কর্মকর্তা বলেন, “ভিডিওটি দেখার সঙ্গে সঙ্গে ইমরানকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সে নিরাপত্তাকর্মীর পোশাক পরা অবস্থায় দায়িত্বরত থেকে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাকে হুমকি দিয়েছে।”
এদিকে, চাকরি হারানোর পর সোমবার বিকালে আবার ফেসবুক লাইভে আসেন ইমরান। সেখানে তিনি বলেন, “একটি লাইভ করার কারণে আজকে আমার এই অবস্থা। সামান্য একটি পনেরো হাজার টাকা বেতনের চাকরি করতাম। লাইভটা করার কারণে আমার চাকরিটা চলে গেছে। আমি বর্তমানে রাজধানীর গুলিস্তান মোড়ে আছি।”
এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি আমি দেখেছি। তার বাড়ি ছনুয়া হলেও সে সীতাকুণ্ড এলাকায় থাকে। আমি সীতাকুণ্ড থানার ওসিকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা তাকে খুঁজছে।”