বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

হাটহাজারীতে খাস জমি দখল, গাছ কাটার অভিযোগ সাবেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৬ জুলাই ২০২৫ | ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার এক সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং সরকারি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনায় পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জামাল, জসিম উদ্দিন ও রাশেদ নামের তিন ব্যক্তি প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মোহাম্মদপুর এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাশেম এবং তার ছেলেরা কৃষি জমির মাটি দিয়ে পার্শ্ববর্তী সরকারি খাস জায়গা ভরাট করেছেন। সম্প্রতি সেখানে পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য সড়কের পাশের প্রায় ১০টি সরকারি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে অভিযোগকারীদের বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় টিঅ্যান্ডটি বোর্ডের অধিগ্রহণ করা কিছু জায়গা রয়েছে। ২০২৩ সালের শেষে এবং ২০২৪ সালের শুরুতে অভিযুক্তরা সেখানে দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করলে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাশেম।

তিনি বলেন, “আমি কৃষি জমির মাটি কাটিনি। মসজিদ ভরাটের জন্য মাটি কিনেছি। আর সরকারি গাছও কাটিনি। সড়কের পাশে বজ্রপাতে কয়েকটি গাছ মরে গেছে, সেগুলোই সরানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি মরা গাছ এখনও আমার বাড়ির গেটের পাশে আছে, যা আমার লাখ টাকার গেটের জন্য হুমকি। বিষয়টি পৌর প্রশাসককে জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সুনাম নষ্ট করতে ‘মিথ্যা রটনা’ ছড়ানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে হাটহাজারী ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রমিজ উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।”

জানতে চাইলে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা বিপ্লব চন্দ্র মুহুরী বলেন, “আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।”

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম মশিউজ্জামান বলেন, “এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু ঘটনাটি পৌরসভার এখতিয়ারভুক্ত, তাই অভিযোগটি সুপারিশসহ পৌর প্রশাসকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।”