বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

ওসি মনির হোসেনের নির্ঘুম রাত, জালে বড় অস্ত্র কারবারি

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৭ জুলাই ২০২৫ | ২:৪৬ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ভোরে এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গুলি ও নগদ টাকাসহ এক অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উপজেলার বরুমচড়া এলাকায় এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোররাত চারটার দিকে তাদের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে যে, বরুমচড়া এলাকার আব্দুল মজিদ নামের এক ব্যক্তি অস্ত্র বিক্রির জন্য তার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের চালান মজুদ করেছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওসি মনির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত অভিযানের প্রস্তুতি নেয় এবং ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ওই এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাড়িটি ঘিরে ফেলে।

অভিযানের এক পর্যায়ে পুলিশ আব্দুল মজিদ (৪২)-এর বসতঘরে তল্লাশি শুরু করে। এ সময় তার ঘর সংলগ্ন পুকুরের পাকা ঘাটের পাশে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় একটি অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধান পায় পুলিশ।

এ বিষয়ে ওসি মো. মনির হোসেন জানান, “মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় আমরা একটি বিদেশি (তুর্কমেনিস্তানের তৈরি) এলজি, একটি কাঠের বাটযুক্ত দেশীয় তৈরি এলজি এবং ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করি। তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্র কারবারি আব্দুল মজিদকে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়।”

তিনি আরও জানান, পরে আব্দুল মজিদের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত ১১টি ছোট-বড় যন্ত্রাংশ, অস্ত্র রাখার একটি স্টিলের বাক্স, একটি স্মার্টফোন এবং অস্ত্র বিক্রির নগদ ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

এই সফল অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মো. সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, “ভোররাতে ইনফরমেশন পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে বিক্রয়ের জন্য মজুদকৃত অস্ত্রসহ একজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা নিঃসন্দেহে পুলিশের একটি বড় সাফল্য এবং প্রশংসার যোগ্য। ওসি মনির হোসেন অত্যন্ত চৌকস একজন কর্মকর্তা। তিনি আনোয়ারায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।”

গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল মজিদ বরুমচড়া এলাকার মৃত হাজী মুসলিম আহমদ চৌধুরীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।