
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার চলমান দ্বন্দ্ব এবং পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি দেশে আবার ‘ফ্যাসিবাদকে’ ফিরিয়ে আনবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
মঞ্জু বলেন, “একটা বছর যেতে না যেতেই আমি এই কথাগুলো সব জায়গায় বলেছি। ড. ইউনূসের সাথে দেখা হয়েছে, সেখানেও বলেছি—জামায়াত এবং বিএনপির দ্বন্দ্বে আবার কিন্তু ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটবে। কারণ উনারা একজন আরেকজনকে যে গালিগালাজ করছেন—একজনকে গালি দিচ্ছেন রাজাকার, আরেকজনকে গালি দিচ্ছেন চাঁদাবাজ।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এক বছর আগেও যখন আপনারা জেলখানায় ছিলেন, একই প্রিজনভ্যানে চড়েছেন, একজনের খাবার ভাগ করে খেয়েছেন, তখন তো মনে হয়নি কে চাঁদাবাজ আর কে রাজাকার। তাহলে এখন কেন আপনাদের এই মনে হচ্ছে?”
ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারাকে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে এবি পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, “আপনারা মনে করছেন শত্রু চলে গিয়েছে, এখন আমরাই রাজা। শত্রুকে আপনারা সরাতে পারেননি। আপনাদের এত সমাবেশ, এত শক্তি, এত টাকা পয়সা—আপনারা কেউ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে বিজয়ী হতে পারেননি, এটা সত্য কথা।”
ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে বহুবার। কিন্তু সেই ফ্যাসিবাদ আবার মাথা চাড়া দিয়ে দাঁড়ায় আমাদের ভুলের কারণে। ৭৫-এর পর বিএনপি-জামায়াতের ভুল রাজনীতির কারণে ফ্যাসিবাদ তাদের হাত ধরে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। আবার ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পরে পতিত এরশাদকে দেখা গেছে কখনো বিএনপি, কখনো আওয়ামী লীগের সাথে গলা মিলিয়ে রাজনীতির স্রোতধারায় ফিরতে।”
সাংবাদিকদের একাংশের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “আমরা যে ফ্যাসিবাদ দেখছি, তার অবয়ব রূপ হিসেবে শেখ হাসিনাকে দেখি। কিন্তু আমার বিশ্বাস, এই ফ্যাসিবাদের পেছনে খুব ন্যক্কারজনক ভূমিকা পালন করছে কিছু সাংবাদিক নামের অ্যাক্টিভিস্ট। যারা আচরণে, কর্মকাণ্ডে শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি ফ্যাসিবাদী।”
জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “৮ অক্টোবর দশ লাখ মানুষের সমাবেশ পুলিশ আধা ঘণ্টায় তুলে দিয়েছে। কিন্তু জুলাইয়ের শেষে এসে আগস্টে দেখেন, যাত্রাবাড়ী বা বাড্ডায় পুলিশ মানুষকে উঠাতে পারেনি। এরা কারা? এরা জামায়াত? এরা বিএনপি? না। এটা হলো মানুষের তিল তিল করে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, যা আল্লাহর রহমতের মাধ্যমে এসেছে।”
ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে মঞ্জু বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলেছি—আওয়ামী লীগকেও আমরা ক্ষমা করতে চাই, ফ্যাসিবাদকেও আমরা একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশোধন করতে চাই। কিন্তু তাকে তো তার ভুল স্বীকার করতে হবে, ক্ষমা চাইতে হবে। ভুল করার পরও যারা গলা উঁচু করে কথা বলে, তাদের কপালে ধিক্কার ছাড়া আর কিছু দেওয়ার নেই।”
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে ও বৈশাখী টিভির ব্যুরো প্রধান গোলাম মওলা মুরাদের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন এবি পাটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম মহানগরের আহবায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও হাটহাজারী থেকে এবি পার্টির সংসদ সদস্য সম্ভাব্য প্রার্থী লে. কর্ণেল (অব.) দিদারুল আলম পিএসসি, জাতীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ লোকমান, চট্টগ্রাম মহাগর যুগ্ম আহবায়ক ছিদ্দিকুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ আবুল কাসেম ও হায়দার আলী চৌধুরী।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন দৈনিক কালের কণ্ঠ চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ও বিশেষ প্রতিনিধি মুস্তফা নঈম। উপস্থিত ছিলেন বাসসের সিনিয়র সাংবাদিক মিয়া মোহাম্মদ আরিফ, ইসলামিক টিভির সাবেক ব্যুরোচীফ শহিদুল ইসলাম, নিউজগার্ডেন সম্পাদক কামরুল হুদা, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের ব্যুরো চীফ মজুমদার নাজিম, এই বাংলার নির্বাহী সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান মিন্টু, দৈনিক দিনকালের ব্যুরো চীফ হাসান মুকুল প্রমুখ।