বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

শহীদ ফারুকের মতো সাধারণ সাহসীদেরও স্মরণে রাখতে হবে : হুম্মাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৭ জুলাই ২০২৫ | ৯:২০ অপরাহ্ন


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “আমরা রাজনীতিবিদরা নিজেদের নিয়েই ভাবি, কিন্তু যারা রাজনীতির বাইরে থেকেও দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন, তাদের ভুলে যাওয়া অন্যায়। শহীদ ফারুক ছিলেন তেমনই একজন দেশপ্রেমিক, যিনি রাজনীতিতে না থেকেও নিজের জীবন দিয়েছেন দেশের জন্য।”

আজ রবিবার (২৭ জুলাই) শহীদ ওয়াসিম, আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ স্মরণে এবং তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনসমূহ-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “নাসিম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাকে অনেকে জানে। কিন্তু শহীদ ফারুক ছিলেন একজন কাঠ ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ। তাঁর সাহস, তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা হওয়া উচিত।”

রাজনীতির দীর্ঘ আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরে হুম্মাম কাদের বলেন, “আমরা ১৬ বছর ধরে আন্দোলন করছি। এই সময়ে প্রতিদিন আমাদের দলের কেউ না কেউ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কেউ মারা গেছেন, কেউ মামলা-হামলার ভুক্তভোগী হয়েছেন। আর এর একটাই কারণ—তারা বাংলাদেশকে ভালোবেসেছেন।”

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সরকার পতনের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের জিজ্ঞেস করা হয়, আপনারা কোথায় ছিলেন? অথচ ১৬ বছরের প্রতিদিনই আমরা রাজপথে ছিলাম। তবে যখন সাধারণ জনগণ এগিয়ে এলো, ৩৬ দিনের মধ্যেই শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। জনগণ ছিল বলেই এই আন্দোলন সফল হয়েছে।”

রাজনীতিতে সততা ও পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরে হুম্মাম বলেন, “একজন নেতা কানে কানে বললেন—নমিনেশন আনেন, আপনাকে সাপোর্ট করবো। আমি তাদের বলে দিতে চাই, আমার কাছে নমিনেশনের চেয়ে বড় হচ্ছে যারা ভালোবেসে পাশে থেকেছে, তাদের মূল্যায়ন। রাজনীতি শিখেছি আমার বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাছ থেকে। উনি বলতেন, রাঙ্গুনিয়ায় আমরা রাজনীতি করি না—এটা আমাদের পরিবার। সেই পারিবারিক ভালোবাসার মধ্যে কোনো শর্ত থাকতে পারে না।”

নিজ দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি হয়তো আপনাদের সবাইকে পদ-পদবি দিতে পারবো না, কিন্তু যতদিন বাঁচি আপনাদের সম্মান করবো, মাথানত করে চলবো। যারা কষ্ট পেয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকেই এখন বড় পদ নিয়ে রাজনীতি করছে, যাদের আমরা গত ১৬ বছর খুঁজে পাইনি। আমাকে বলা হয়, ভাইজান আপনি একটু লবিং করলে কনফার্ম হয়ে যেত। আমি স্পষ্ট করে বলি, এই লবিং আমার বাবা শেখাননি। আজ তিনি আমার জন্য ওপরে বসে লবিং করছেন, আমি বিশ্বাস করি। আর সেই বিশ্বাসেই রাজনীতি করি।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নান রনি এবং সঞ্চালনা করেন রেজাউল করিম।

প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ মিয়া চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিভাগীয় পিপি অ্যাডভোকেট এস ইউ এম নুরুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ওয়াকিল আহমেদ, শওকত আলী, কে কে এম খাইরুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, রেজাউল করিম সওদাগর, শাহেদ কামাল, জাহেদুল আলম চৌধুরী, ইউসুফ কামাল, সিরাজুল ইসলাম, নেছারুল ইসলাম, কামাল উদ্দীন মেম্বার, ভিপি আনছুর উদ্দিন প্রমুখ।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন মাকসুদুল হক চৌধুরী, আবু মনসুর, ইউসুফ সাগর, নাজিম উদ্দীন, দিদারুল আলম, খোরশেদ আলম, নেজাম উদ্দিন, হেলাল আহমেদ, হাজী ইকবাল, জাফর ইকবাল, ইমরুল হাসান চৌধুরী, পারভেজ মোশাররফ, এবিএম সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।