বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

রাউজানে বিএনপির দুপক্ষে সংঘর্ষ-ভাঙচুর, আহ্বায়ক গোলাম আকবর আহত

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৯ জুলাই ২০২৫ | ৬:৫৭ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে; এতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

আহত গোলাম আকবর খোন্দকারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার ব্যক্তিগত সহকারীর দাবি, খোন্দকারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার বিকেলে রাউজান পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সত্তারঘাট এলাকায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

খোন্দকারের অনুসারীরা এই ঘটনার জন্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাম আকবর খোন্দকার তার অনুসারীদের নিয়ে সুলতানপুরে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদের কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছিলেন।

একই সময়ে ৯ অগাস্ট ‘গণঅভ্যুত্থানের’ বর্ষপূর্তি ও গণসমাবেশ উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে সত্তারঘাট এলাকায় পৌঁছায়।

সেখানে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং মুহূর্তেই সংঘর্ষ বেধে যায়।

এ সময় খোন্দকারের গাড়িবহরে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়।

গোলাম আকবর খোন্দকারের ব্যক্তিগত সহকারী অর্জুন কুমার নাথ বলেন, “স্যারকে (খোন্দকার) লক্ষ্য করেই গুলি করা হয়েছিল। গলার পাশ দিয়ে গুলি চলে গেছে, রক্তপাত হচ্ছে। আমরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।”

হামলার পর গোলাম আকবর খোন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, “তারা হামলা করবে বলে আগেই সংবাদ পেয়েছিলাম। গিয়াসের নির্দেশে সারাদিন সত্তরঘাট থেকে মুন্সিঘাটা পর্যন্ত মিছিল করার একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে একটি নোটও পাই। আমি বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছিলাম। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছিল কোনো অসুবিধা হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “কিন্তু আমরা সত্তরঘাট ব্রিজ পার হওয়ার সাথে সাথেই ৫০-৬০ জন লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।”

এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন রাউজান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসিম উদ্দিন চৌধুরী, খোন্দকারের ব্যক্তিগত সহকারী অর্জুন কুমার নাথ, যুবদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি নাঈম উদ্দিন মিনহাজ।

এদিকে, ঘটনার পরপরই খোন্দকারের অনুসারীরা ঘটনাস্থলে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।