বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

রাউজানে সংঘর্ষের জের: পদ হারালেন গিয়াস কাদের ও গোলাম আকবর

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৩০ জুলাই ২০২৫ | ৭:৩৩ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপিতে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কমান্ড। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা পৃথক চিঠিতে উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ স্থগিত এবং আরও পাঁচ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে প্রথমে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করার চিঠি আসে। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর গিয়াস কাদের চৌধুরীর পদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বহিষ্কৃত অন্য পাঁচ নেতা হলেন—উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, বারইয়ার হাট পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম মিয়াজী এবং যুবদল নেতা সিরাজুল ইসলাম ও কামাল উদ্দিন। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সংঘাত ও হানাহানি সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।

কেন্দ্র থেকে পাঠানো চিঠিতে গিয়াস কাদের চৌধুরীর কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, বারবার সতর্ক করার পরও তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দিয়ে এলাকায় ‘ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করছেন।

বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন জানান, ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর গোলাম আকবর খন্দকারকে আহ্বায়ক করে উত্তর জেলার ৪৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল, যা পরে ৫৩ সদস্যের হয়। কিন্তু তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে গত সাড়ে চার বছরেও এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।

উল্লেখ্য, রাউজানে গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে সহিংসতায় ১৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১০টিই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। এই সময়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে শতাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে, যাতে তিন শতাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘাত প্রায়ই রক্তক্ষয়ী রূপ নিত, যা অবশেষে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করল।